রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আচারের বয়ামের কায়দা করে লুকিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ মূল্যবান হীরা, প্লাটিনাম, রুবি, পোখরাজ ও সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। কলকাতা থেকে আসা এক যাত্রীর ব্যাগে থাকা খাবারের বয়াম স্ক্যান করে এনবিআর ও কাস্টমসের কর্মকর্তারা এই চোরাচালান ধরে ফেলেন। জব্দ করা বিভিন্ন অলংকার ও মূল্যবান রত্নের আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা। জনি রহমান নামের অভিযুক্ত ওই যাত্রীকে কাস্টমস কর্মকর্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আটক করে থানায় ফৌজদারি মামলায় চালান করে দিয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ শাখা থেকে জানা গেছে, গত রাতে গোপন সংবাদের সূত্রে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে খবর পৌঁছায় যে কলকাতা থেকে আসা বিমানের একটি নির্ধারিত ফ্লাইটে আন্তর্জাতিক অলংকার ও রত্ন পাচার হতে পারে। তথ্য পাওয়ার পরপরই ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম এবং বিমানবন্দরে সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত কাস্টমস কর্মকর্তারা সতর্কতা বাড়ান। ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর সন্দেহভাজন জনি রহমান লাগেজ কিংবা ব্যাগেজের কোনো ধরনের আইনি ডিক্লারেশন না দিয়ে অনায়াসে গ্রিন চ্যানেল পার হতে যাচ্ছিলেন। ওই সময়েই প্রিভেন্টিভ টিমের সদস্যরা তার গতিপথ রোধ করেন এবং ব্যাগ পরীক্ষার জন্য এক্স-রে স্ক্যানার মেশিনে পাঠান।
স্ক্যান করার প্রক্রিয়ায় যাত্রীর সাধারণ মালামালের বদলে ব্যাগের ভেতরে থাকা প্লাস্টিক ও কাচের বয়ামের মাঝখানে অস্বাভাবিক ধাতব অস্তিত্ব দেখা যায়। কাস্টমস অফিসাররা ম্যানুয়াল তল্লাশি চালিয়ে বয়ামের কভার খুলে চমকে ওঠেন। ভেতরে নিখুঁতভাবে প্যাকেট করে রাখা ছিল ১৮ ক্যারেট মানের ৪৭৮ গ্রাম ওজনের ৩৮৯টি ডায়মন্ড সেট করা সোনার আংটি, ৯৫০ কোয়ালিটির ৪৫০ গ্রাম ওজনের ১৫১টি দামী প্লাটিনামের আংটি এবং ডায়মন্ড খচিত সাদা সোনা ও রুপার হরেক ডিজাইনের গয়না। এছাড়া ব্যাগ থেকে ৫টি স্বর্ণের লকেট, চেইন এবং ৪৭২টি সোনার নাকফুলও পাওয়া যায়।
কাস্টমস হাউসের তৈরি করা অফিশিয়াল ইনভেন্টরি তালিকা অনুযায়ী, মোট জব্দ পণ্যের সামগ্রিক ওজন প্রায় ১ হাজার ৫৪ গ্রাম বা ১ কেজি ৫৪ গ্রামের মতো। অলংকারের পাশাপাশি ওই বয়ামের গোপন কুঠুরি থেকে ডায়মন্ড কাটিংয়ের ৪৫ ক্যারেট হীরা, ছোট-বড় সাইজের লাল রুবি, নীল পোখরাজ ও অন্যান্য দামী বৈচিত্র্যময় রত্ন মিলিয়ে সর্বমোট ৭২০টি মূল্যবান পাথর পাওয়া যায়। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় ছিল, মালামালগুলোর সাথে আন্তর্জাতিক জুয়েলারি মান যাচাইয়ের ২৩টি আলাদা প্রামাণ্য সার্টিফিকেট কার্ডও রাখা হয়েছিল।
ব্যাগেজ রুলস ও কাস্টমস আইনের সব বিধিবিধান লঙ্ঘন করে কোনো ঘোষণা ছাড়াই এই বিশাল মূল্যের চালান কেন ও কাদের জন্য আনা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। কাস্টমস সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, জব্দকৃত মালামালের মূল সার্টিফিকেশন ও বর্তমান গহনার অলংকারিক বাজারদর অনুযায়ী এই পুরো চালানের বাজারমূল্য আনুমানিক ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরে গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময়ে কর ফাঁকি দেওয়া ও অবৈধ পাচারের স্পষ্ট অপরাধে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ অফিসাররা বাদি হয়ে বিমানবন্দর থানায় স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট ও কাস্টমস আইনের ধারায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন।

