ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধসহ জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন ওষুধ চোরাচালানের অভিযোগে একজন চীনা নাগরিকসহ একই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য সাড়ে সাত কোটি টাকা। রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
এসআরবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় বা উদ্ধার হওয়া ওষুধের নির্দিষ্ট তালিকা উল্লেখ করা হয়নি। অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানাতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহজাহানপুরের ঝিলপাড়ে এসআরবি-৩ এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন অভিযানের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তুলে ধরবেন।

ক্যানসারের ওষুধ সাধারণত অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এর অনেকগুলো নির্দিষ্ট তত্ত্বাবধানে ব্যবহারের উপযোগী। এ ধরনের ওষুধ অবৈধ পথে দেশের বাইরে পাচার হলে তার প্রভাব সরাসরি রোগীদের ওপর পড়ার আশঙ্কা থাকে। বাজারে সংকট তৈরি হতে পারে, আর সংকটের সুযোগে দাম বাড়ার ঝুঁকিও থাকে। যাঁদের জীবন নির্ভর করে নিয়মিত ওষুধের ওপর, তাঁদের জন্য সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাতও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সে কারণে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পাচারের ঘটনাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হয়।
তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। ওষুধগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কোন পথে এবং কোন দেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল, চক্রটি কত দিন ধরে সক্রিয় ছিল, তা জানানো হয়নি। ওষুধের উৎস বৈধ ছিল কি না, অর্থাৎ দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে এসব সরানো হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। এই বিষয়গুলো পরিষ্কার হলে চক্রটির পরিধি ও এর পেছনে থাকা অন্যদের ভূমিকা বোঝা যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধারায় মামলা হচ্ছে এবং তাঁদের আদালতে হাজির করা হবে কি না, তা-ও তখন জানা যেতে পারে।

