যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের তদন্ত করতে গিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা। এই প্রশ্ন ফাঁস চক্রটি শুধু সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কেনাবেচাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ব্যাংক থেকে জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার ঋণ পাইয়ে দেওয়ার অবৈধ সিন্ডিকেটও পরিচালনা করত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পরিবেশ অধিদপ্তর এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই অপরাধ চক্রটি বিগত তিন-চার বছর ধরে সক্রিয় ছিল। এনবিআরের বরখাস্তকৃত কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোটি টাকার চেক ও স্ট্যাম্প উদ্ধারের পর এই জোড়া জালিয়াতির চিত্র উন্মোচিত হয়।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের যে সাতজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম এনবিআরের আয়কর বিভাগের অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর আলম ও অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ইতোমধ্যে এই দুজনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। গ্রেপ্তারদের তালিকায় আরও রয়েছেন রংপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রুবেল ইসলাম এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলামসহ কয়েকজন সহযোগী। মতিঝিল থানায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের করা মামলায় তাদের সবাইকে বর্তমানে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পুরো মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার পর গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন কিংবা ব্ল্যাঙ্ক চেক জামানত হিসেবে সংগ্রহ করত। তাদের কাছ থেকে ১১৬টি স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, পরীক্ষার প্রবেশপত্র এবং প্রশ্নপত্র উদ্ধারের ঘটনা থেকে প্রমাণ মিলছে যে, চক্রটির জালিয়াতির পরিধি বেশ বিস্তৃত। গত ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষায় তারা পরীক্ষার্থীদের আগেই এনে ডিজিটাল ডিভাইস ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উত্তর মুখস্থ করানোর দায়িত্বে লিপ্ত ছিল।
হোয়াটসঅ্যাপ ও মোবাইল বার্তা পর্যালোচনা করে পুলিশ দেখতে পেয়েছে যে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ছাড়াও অতীতে অন্যান্য সরকারি দপ্তরের বেশ কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষাতেও এই চক্রের যোগসাজশ ছিল। সিআইডি ইতোমধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১২টি ডিজিটাল ডিভাইস আলামত হিসেবে জব্দ করেছে এবং কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করেছে। মামলার নথিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরিত হলে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে মূল হোতা বা মাস্টারমাইন্ডকে শনাক্ত করতে জোর তদন্ত চালাবেন তদন্তকারীরা।

