বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা এবং মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিশেষ শুল্ক ছাড়ের অপব্যবহারের অভিযোগে উইলিয়ামস সোয়েটার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ও কর ফাঁকির তথ্য শনাক্ত করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এর মধ্যে বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও বিনা মূল্যে সরবরাহ করা কাঁচামাল ব্যবহারে অনিয়মের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, বিশেষ সুবিধায় আমদানি করা যন্ত্রপাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রেজভী আহমেদ।
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি চীন ও ভারত থেকে তিনটি আমদানি ঘোষণার মাধ্যমে ৩৭ দশমিক ০৮ টন কাঁচামাল এনেছিল। এসব পণ্যের নির্ধারিত মূল্য ছিল প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকা।
এ ছাড়া মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির বিশেষ সুবিধায় মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক দিয়ে ৫২৫টি যন্ত্র আমদানি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু তদন্তকারীরা সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় যন্ত্রগুলোর কোনোটি খুঁজে পাননি। এ কারণে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
তদন্তে বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও বিনা মূল্যে সরবরাহ করা কাঁচামাল সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান রেজভী আহমেদ।
অভিযোগ অনুযায়ী, রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনে ব্যবহারের শর্তে আমদানি করা কাঁচামাল নির্ধারিত কাজে ব্যবহার না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্য আমদানির সময় পাওয়া সুবিধার শর্ত যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানটির বন্ড রেজিস্টারও খুঁজে পাননি তদন্তকারীরা। পাশাপাশি আমদানি ও রপ্তানির বিস্তারিত তথ্য দিতে প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
এর ফলে আমদানি করা কাঁচামাল কোথায় রাখা হয়েছিল এবং সেগুলো প্রকৃতপক্ষে কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এখনো চলছে। সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ঠিক করতে কাজ করছেন তদন্তকারীরা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি যে পরিমাণ শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে থাকতে পারে, তার মোট হিসাবও তৈরি করা হচ্ছে।
তদন্ত শেষ হলে অভিযোগের প্রকৃত পরিমাণ এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

