হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৬টি মামলার আসামি রাজিব হোসেন সুমন ওরফে মেরিল সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রংপুর মহানগরের সিও বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ব্যাটালিয়নটির রংপুরের উপঅধিনায়ক মেজর সাইফুল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে অস্ত্র আইনে ছয়টি এবং হত্যাচেষ্টা ও মারামারির আটটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, মেরিল সুমনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির চারটি, ডাকাতির প্রস্তুতির তিনটি এবং অপহরণ, হত্যা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দ্রুত বিচার আইনে একটি করে মামলা রয়েছে। রংপুর মহানগরের শালবন শাহীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মেরিল সুমনের বয়স ৩৫ বছর। তাঁকে রংপুর কোতোয়ালি থানায় করা একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআরবি-১৩-এর উপঅধিনায়ক। পরে তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে ২০১৫ সালে জাপানি নাগরিক কুনিও হোসি হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে অস্ত্রসহ মেরিল সুমনকে গ্রেপ্তার করেছিল তৎকালীন র্যাব-৫। তবে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কুনিও হোসি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে মেরিল সুমনের নাম না থাকায় তিনি ওই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। ফলে তাঁকে ওই হত্যাকাণ্ডের বর্তমান বিচারাধীন মামলার আসামি হিসেবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে রংপুরের তাজহাট এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে বিদেশি পিস্তল, রিভলবার, গুলি, ওয়ান শুটার গান ও চীনা কুড়ালসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে রংপুরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে পিস্তল ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের তথ্যও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। চলতি বছরের শুরুতেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে হামলার পরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ঠাকুরগাঁওয়ে যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানায় এসআরবি।
সর্বশেষ গ্রেপ্তারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কাছে অবৈধ অস্ত্র আছে কি না এবং তাঁর সহযোগীদের শনাক্ত করা যায় কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১৩। তবে বিভিন্ন মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

