প্রবাস জীবনে উপার্জিত প্রায় ২০ লাখ টাকার হিসাব চাওয়ার সূত্র ধরে পারিবারিক বিরোধ এবং সংসার চালিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে স্ত্রী হাসনা আক্তারকে (২০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী রফিকুল ইসলামের (২৮) বিরুদ্ধে। নারকীয় এই ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত স্বামীকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার হায়দরাবাদ (শুকুন্দিরবাগ) এলাকার রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ হাসনা আক্তার নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার অধিবাসী এবং পরিবার নিয়ে গাছা থানার খাইলকুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। আটক রফিকুল ইসলাম একই এলাকার মৃত সিরাজ মণ্ডলের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই রফিকুল মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমান। রফিকের দাবি অনুযায়ী, প্রবাসে থাকাকালে তিনি স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যায়ক্রমে ২০ লাখ টাকা পাঠান। গত ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার পর স্ত্রীর কাছে পাঠানো অর্থের হিসাব দাবি করলে হাসনা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে করে উভয়ের মধ্যে চরম পারিবারিক অসন্তোষ দেখা দেয়।
রবিবার দুপুরে কৌশলে স্ত্রীকে শুকুন্দিরবাগ রেললাইন এলাকায় ডেকে নিয়ে যান রফিকুল। নির্জন স্থানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে হাসনার গলার শ্বাসনালী কেটে উপুর্যপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ধাওয়া দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রফিকুলকে আটক করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসনাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

