কক্সবাজারের ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কে যানবাহন থামিয়ে দুই দফায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার দুপুর ও বিকেলে হিমছড়ি ঢালা এলাকায় অস্ত্রধারী ডাকাতদলের কবলে পড়েন প্রায় ৫০টি যানবাহনের যাত্রী। নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে ডাকাতেরা জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়। কয়েকজনকে মারধরও করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান শুরু করলেও রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।
ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ১০ থেকে ১২ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র দল সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল থামিয়ে দেয়। এরপর অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে তাঁদের কাছ থেকে টাকাপয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী কেড়ে নেয়। কয়েকজন যাত্রীকে পাশের জঙ্গলে টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করে ডাকাতেরা। মারধরে দুজন মোটরসাইকেল আরোহী আহত হয়েছেন।
একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম জানান, দুপুরে তিনি মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড়ে যাচ্ছিলেন। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাঁদের মোটরসাইকেল থামিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
অন্য একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষক আব্দুল হাকিম অটোরিকশায় আরও দুজনকে নিয়ে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় বাজারে যাচ্ছিলেন। তিনি জানান, ডাকাতেরা তাঁদের পথ আটকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। পরে তাঁদের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়।
ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, দুই দফায় অনেকগুলো গাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করেছে।
ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদা বলেন, ডাকাতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কয়েকটি দল অভিযান চালাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, একদল ডাকাত সড়ক অবরোধ করে যাত্রীদের জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে জঙ্গলের দিকে পালিয়ে গেছে। তবে ঠিক কতগুলো গাড়িতে ডাকাতি হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের দাবি, গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৫০।
স্থানীয়দের মতে, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলার পাহাড়ি এলাকা দিয়ে যাওয়া ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে প্রায়ই ডাকাতি, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সন্ধ্যার পর সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়।
এই ঘটনায় আবারও সড়কটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুই দফায় প্রায় ৫০টি যানবাহনে লুটপাটের ঘটনা বলে দেয়, ডাকাতেরা বেশ সংগঠিত ছিল এবং পুরো এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পাহাড় ও জঙ্গলঘেরা নির্জন সড়কটিতে নিয়মিত পুলিশি টহল ও নজরদারি না থাকলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন। বিশেষ করে বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা যেহেতু নগদ অর্থ নিয়ে এ পথে যাতায়াত করেন, তাঁরা সহজ লক্ষ্যে পরিণত হচ্ছেন। এখন জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা এবং সড়কটিতে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই পুলিশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

