কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রতিবেশী এক নারীর বিরুদ্ধে পোষা বিড়ালকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার বিচার চেয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে মৃত বিড়ালটিকে খাঁচায় ভরে চকরিয়া থানায় হাজির হন এর মালিক। সেখানে তিনি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। পুলিশ বলছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিড়ালটির মালিকের নাম শামশুল আলম, বয়স ৫৪ বছর। তিনি চকরিয়া পৌরসভার কাজীরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ করা হয়েছে তাঁর প্রতিবেশী ফিরোজা বেগমের বিরুদ্ধে।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, শামশুল আলম দীর্ঘদিন ধরে দুটি বিড়াল যত্ন করে লালন-পালন করে আসছেন। সোমবার সকালে তিনি বাড়ির পেছনের একটি খালি জায়গায় ছাগল বেঁধে দিতে যান। তখন তাঁর একটি বিড়াল পিছু পিছু যায়। এ সময় ফিরোজা বেগমের পোষা কুকুর বিড়ালটিকে কামড়ানোর চেষ্টা করে। শামশুল আলম কুকুরটিকে তাড়িয়ে দেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফিরোজা বেগম লাঠি দিয়ে বিড়ালটিকে পিটিয়ে হত্যা করেন।
শামশুল আলম বলেন, বিড়ালগুলো তাঁর কাছে সন্তানের চেয়েও বেশি আদরের ছিল। অনেক যত্নে তিনি এগুলো বড় করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সামান্য একটি ঘটনার জেরে তাঁর বিড়ালকে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ কোনো অবলা প্রাণীর সঙ্গে এমন আচরণের সাহস না পায়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফিরোজা বেগমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, প্রাণী হত্যা আইনগত অপরাধ। শামশুল আলমের অভিযোগটি খতিয়ে দেখে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে, তা মূলত শামশুল আলমের দেওয়া অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে। অভিযুক্ত নারীর পক্ষের বক্তব্য না পাওয়ায় ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট নয়। পুলিশের তদন্তেই বোঝা যাবে, আসলে সেদিন সকালে কী ঘটেছিল।
ঘটনাটি প্রতিবেশীদের মধ্যে একটি তুচ্ছ বিরোধ বলে মনে হলেও এর একটি বড় দিক আছে। পোষা প্রাণীকে পরিবারের সদস্যের মতো দেখার প্রবণতা সমাজে বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা যে আইনে অপরাধ, সে বিষয়ে সচেতনতাও জরুরি। মৃত বিড়াল নিয়ে একজন মালিকের থানায় যাওয়ার এই দৃশ্য সেই সচেতনতারই একটি প্রতিফলন।

