চুয়াডাঙ্গার দুটি ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে টাকা না দিয়ে পালানোর অভিযোগে দুই মোটরসাইকেলচালককে আটক করা হয়েছে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ধাওয়া করে তাঁদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন ফিলিং স্টেশনের লোকজন। শুক্রবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা ফিলিং স্টেশন ও হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বালিদাপদাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম রেজা (৪২) এবং একই উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে শান্ত রহমান (২০)। তাঁদের বিরুদ্ধে মালিকপক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রানা জানান, অভিযুক্ত দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
চুয়াডাঙ্গা–আলমডাঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত চুয়াডাঙ্গা ফিলিং স্টেশনের মালিক তসলিম আরিফ। তিনি জেলা জ্বালানি তেল পরিবেশক ও পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৯টা ৪৮ মিনিটে দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে দুজন তাঁর পাম্পে আসেন। তাঁরা মোট ১ হাজার ৭৫০ টাকার তেল নেন। এরপর একজন মবিল নেওয়ার কথা বলে কর্মচারীকে পাম্পের কার্যালয়ে পাঠান। সেই সুযোগে দুজন মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান।
এরপর রাত ১০টা ২৫ মিনিটে তাঁরা চুয়াডাঙ্গা–ঝিনাইদহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ডিঙ্গেদহ এলাকার হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনে যান। সেখানেও একই কৌশল অবলম্বন করে দুটি মোটরসাইকেলে ১ হাজার ৭৫০ টাকার তেল নিয়ে ঝিনাইদহের দিকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।
তসলিম আরিফ জানান, প্রথম ঘটনার খবর পেয়েই তিনি হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনকে সতর্ক করেছিলেন। এ কারণে তেল নিয়ে পালানোর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের ধাওয়া করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি সরোজগঞ্জ এলাকার পেট্রলপাম্পের মালিককেও জানানো হয়। পরে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ধাওয়া করে তাঁদের আটক করা হয়। পুলিশ সুপারকে জানানো হলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
ঘটনাটি ছোট অঙ্কের হলেও এতে পাম্প মালিকদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে। একটি পাম্পের তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তাই দ্বিতীয় পাম্পকে প্রস্তুত রাখতে পেরেছে এবং অভিযুক্তদের ধরা সহজ করেছে। একই কৌশলে একাধিক পাম্পে প্রতারণার চেষ্টা বন্ধ করতে এমন পারস্পরিক তথ্য বিনিময় কার্যকর হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাম্পে তেল নেওয়ার পর টাকা না দিয়ে পালানোর ঘটনা মালিক ও কর্মচারীদের জন্য আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকিও তৈরি করে। কর্মচারীদের বিভ্রান্ত করে সরে পড়ার কৌশল ঠেকাতে সতর্কতা বাড়ানো দরকার। এখন দেখার বিষয়, পুলিশের তদন্তে আর কোনো তথ্য উঠে আসে কি না এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

