সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি করেন। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান আজ রোববার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে, রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে। হামলার সময় আসিফ আকবর গাড়িতে ছিলেন না।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আসিফ আকবর নিজের ব্যক্তিগত গাড়িটি বিশাল সেন্টারের সামনে পার্ক করেন। এরপর তিনি ভবনটির তৃতীয় তলায় নিজের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। ভোরে বিকট শব্দ শুনে তিনি নিচে নেমে আসেন। তখন গাড়ির পেছনের ডান পাশের দরজার কাচ ভাঙা দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা যায়, মগবাজার থেকে ওয়্যারলেসগামী সড়ক ধরে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে এক ব্যক্তি নামেন। তিনি বিশাল সেন্টারের গাড়ি পার্কিং এলাকায় গিয়ে আসিফ আকবরের গাড়ির পেছনের ডান পাশের দরজার কাচ লক্ষ্য করে গুলি করেন। এরপর ওই অটোরিকশায় চড়েই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং গুলির একটি অংশবিশেষ উদ্ধার করে। হামলাকারীকে শনাক্ত করতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে।
এ ঘটনায় কয়েকটি বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। হামলাকারী কে, কেন গুলি চালানো হলো এবং এর পেছনে ব্যক্তিগত, পেশাগত বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা পুলিশ বা মামলার বাদী কেউই জানাননি। মামলায় কাউকে নির্দিষ্ট করে অভিযুক্ত করা হয়নি, ফলে তদন্তের ওপরই এখন সবকিছু নির্ভর করছে।
গাড়িতে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ভোরের নির্জন সময়ে একটি পরিচিত মুখের গাড়ি লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো বিষয়টিকে গুরুতর করে তুলেছে। এ কারণেই মামলাটি হত্যাচেষ্টার ধারায় করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ আদালতে কতটা টিকবে, তা তদন্ত ও প্রমাণের ওপর নির্ভর করবে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও এখন তদন্তের প্রধান সূত্র। অটোরিকশাটির পথ ও পরিচয় শনাক্ত করা গেলে হামলাকারীর কাছে পৌঁছানো সহজ হতে পারে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। আপাতত নজর থাকছে পুলিশের তদন্তের অগ্রগতির দিকে। হামলাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

