বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ২৯২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার একটি প্রকল্পে কেনাকাটা, দরপত্র ও যন্ত্রপাতির মান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পক্ষ প্রকল্প পরিচালক মো. ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় (ই জিপি) ব্যবস্থায় দরপত্র আটকে রেখে এবং ভুয়া বিল ও ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। বার্তা বাজারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, প্রকল্পের কেনাকাটায় নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এতে বিএডিসি চেয়ারম্যানের প্রভাব কাজ করেছে। উন্নত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত এই প্রকল্পে সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা এবং বীজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফিউমিগেশন শিট নিয়ে তাদের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চমানের শিট আমদানির কথা থাকলেও পরে চীন থেকে তা সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া জাহানারা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সনদ যথাযথভাবে যাচাই না করেই কাজ দেওয়ার অভিযোগও তাঁরা তুলেছেন।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ কম্বাইন হারভেস্টার নিয়ে। ঝিনাইদহের সাধুহাটি খামারে সরবরাহ করা বাংলামার্ক ব্র্যান্ডের মার্কসান এমএস ১০০০ মডেলের হারভেস্টার নিয়ে দাপ্তরিক আবেদনে বলা হয়েছে, যন্ত্রটি চালানোর সময় খড়ের সঙ্গে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ধান অপচয় হচ্ছে। যন্ত্রের ট্যাংকে জমা হওয়া ধানের একটি অংশের খোসা ভেঙে চাল বেরিয়ে আসার অভিযোগও আছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধুহাটি খামারের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আবদুল হাই যন্ত্রটি বদলে নতুন ও সচল হারভেস্টার দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
হবিগঞ্জের ইটাখোলা খামারেও একই ধরনের সমস্যার কথা বলা হয়েছে। বারবার মেরামতের পরও সেখানকার যন্ত্রটি সচল করা যায়নি, আর এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা চেয়েছেন খামারটির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. ওসমান গনি। সাধুহাটি ও ঠাকুরগাঁও খামারে সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির ত্রুটি এবং হারভেস্টারের চালকের আসনে বসে ঠিকমতো যন্ত্র চালাতে অসুবিধার কথাও এসেছে। বিএডিসির অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (খামার) ড. মো. রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন বলে জানা গেছে।
বীজের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিড ড্রায়ার কেনার দরপত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, ১১৭৮৮৪১ ও ১১৭৮৮৪০ নম্বর টেন্ডার আইডির আওতায় অভিজ্ঞ তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। বাদ দেওয়ার কারণ কী ছিল এবং সব অংশগ্রহণকারীর জন্য একই মানদণ্ড মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন।
অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, তারা প্রধানমন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিএডিসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দরপত্র, যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হোক, আর অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

