দেশের বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে আবুধাবি থেকে বাংলাদেশে আনা সোনা আবার সেখানে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে বিমানবন্দরে শুল্ক গোয়েন্দাদের পৃথক দুটি অভিযানে ধরা পড়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের ছয়টি সোনার ডিম। এসব সোনার মোট ওজন ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, জব্দ করা সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান দুটি পরিচালনা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পৃথক দুটি ঘটনায় উদ্ধার হওয়া সোনার পরিমাণ সমান। প্রতিটি ঘটনায় তিনটি করে সোনার ডিম জব্দ করা হয়েছে।
প্রথম অভিযানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবিগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজের এক যাত্রীকে সন্দেহভাজন হিসেবে নামিয়ে আনা হয়। উড়োজাহাজটি সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। পরে ওই যাত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনটি সোনার ডিম উদ্ধার করেন গোয়েন্দারা। এগুলোর মোট ওজন ছিল ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম।
অন্যদিকে বিমানবন্দরের যাত্রী ওঠানামার সেতু এলাকায় ফেলে রাখা অবস্থায় আরও তিনটি সোনার ডিম উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় দফায় জব্দ করা সোনার ওজনও ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম। দুটি অভিযান মিলিয়ে মোট ছয়টি সোনার ডিম উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এসব সোনা আগে আবুধাবি থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। কিন্তু দেশের বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় সেগুলো আবার আবুধাবিতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। সেই উদ্দেশ্যেই সোনাগুলো উড়োজাহাজে করে দেশের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, জব্দ করা সোনার প্রকৃত উৎস এবং এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র জড়িত কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বাইরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রয়েছে কি না, সেটিও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। তদন্ত শেষে সোনার উৎস, আনা-নেওয়ার পদ্ধতি এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।

