হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নারীদের উত্যক্ত করার অভিযোগে দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দিনের মধ্যে আটক এই দুজনকে সাজা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিমানবন্দরে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে এম আবু নওশাদ খান। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি জানান।
পোস্টে নওশাদ খান লেখেন, প্রায় এক বছর আগে বিমানবন্দরে যোগ দেওয়ার পর অল্প সময়ের ব্যবধানে দুজন ইভটিজারকে তিনি সাজা দিয়েছিলেন। অপরাধের ধরন অনুযায়ী একজনকে এক বছর এবং আরেকজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, ওই সাজার প্রভাবে দীর্ঘদিন বিমানবন্দরে নারীদের উত্যক্ত করার কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ তাঁর নজরে আসেনি।
সম্প্রতি আবারও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানান এই ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি লেখেন, গত কয়েক দিনে বিমানবন্দর এপিবিএন ও বিমানবাহিনীর সহায়তায় দুজন নারী উত্যক্তকারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং আটক ব্যক্তিদের দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দণ্ডবিধি, ১৮৮০ অনুযায়ী তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। নওশাদ খানের তথ্য অনুযায়ী, এই দুজনের একজনের ঘরে আগে থেকেই দুই স্ত্রী রয়েছেন।
বিমানবন্দরের ভিড়ের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিজের সক্ষমতার চেয়ে প্রায় দেড় গুণ বেশি যাত্রীকে সেবা দেয়। কেউ বিদেশে গেলে বা ফিরলে স্বজনেরা তাঁকে বিদায় জানাতে বা স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে ভিড় করেন। অথচ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ম হলো, একজন যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন সহযাত্রী আসতে পারবেন। এই নিয়ম অনেকেই মানেন না। ফলে ব্যস্ত সময়ে ভিড় স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। নওশাদ খানের ভাষ্য, এই ভিড়ের সুযোগ নেয় একটি শ্রেণি। কিছু ক্ষেত্রে মানসিক বিকারগ্রস্ত কিছু পুরুষ ভিড়ের মধ্যে নারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করে।
তিনি উল্লেখ করেন, এসব ঘটনা ঠেকাতে বিমানবন্দর এপিবিএন, আনসার, বিমানবাহিনীসহ দায়িত্বরত সব সংস্থা সক্রিয় থাকে। এ কারণে ভিড়ের তুলনায় এ ধরনের ঘটনা অনেক কম ঘটে। তারপরও কোনো ঘটনা ঘটলে টিম এয়ারপোর্টের সহযোগিতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
পোস্টে নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন নওশাদ খান। তাঁর মতে, দুঃখজনক হলেও নারীদের যথেষ্ট সম্মান ও নিরাপদ পরিবেশ অনেক সময়ই নিশ্চিত করা যায় না। পথেঘাটে নারীর সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা সব পুরুষেরই দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেন।
সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি লিখেছেন, কোথাও ইভটিজিংয়ের ঘটনা দেখলে বিষয়টি যাচাই করে অপরাধীকে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। বিমানবন্দরে কেউ এ ধরনের ঘটনার শিকার হলে বা ঘটনা দেখলে নিকটস্থ এপিবিএন, আনসার সদস্য কিংবা বিমানবাহিনীর সদস্যদের জানাতে হবে। চাইলে সরাসরি বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকেও অভিযোগ জানানো যাবে। এ জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৩০৪০৫০৬০৩।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় প্রমাণ সংরক্ষণের পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারীর সম্মান যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। সবাই মিলে রাস্তাঘাট, পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনসহ পুরো শহরকে নারীদের জন্য নিরাপদ রাখার চেষ্টা করার আহ্বান জানান তিনি।
বিমানবন্দরের মতো আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গেও জড়িত। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, সহযাত্রীর সংখ্যা সীমিত রাখার নিয়ম মানা এবং দ্রুত অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে এ ধরনের ঘটনা আরও কমানো সম্ভব, এমনটাই ইঙ্গিত মেলে ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্যে।

