বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সংবেদনশীল তথ্য ইন্টারনেট জগতে ফাঁস হয়েছে। এই তথ্যের মধ্যে রয়েছে পুলিশের এক লাখেরও বেশি সদস্যের ব্যক্তিগত তথ্য, একটি পুলিশের ক্রাইম ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (সিডিএমএস) লগইন তথ্য, সরকারি সেবা সংস্থার তথ্যভান্ডারের অ্যাডমিন প্যানেলের আইডি ও পাসওয়ার্ড, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য।
এই তথ্যগুলো সম্প্রতি ডার্ক ওয়েব এবং টেলিগ্রামের চ্যানেলে বিক্রির উদ্দেশ্যে ছাড়ানো হয়েছে।
পুলিশের সিডিএমএসের লগইন তথ্য সহ ৩১ হাজার ৪১৫টি তথ্য ফাঁস হয়েছে। যেগুলো সামান্য টাকার বিনিময়ে ইন্টারনেটের অপরাধী চক্র দ্বারা বিক্রি হচ্ছে। সিডিএমএসের মাধ্যমে পুলিশের বিভিন্ন মামলার তথ্যও চুরি হচ্ছে, যা গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা একটি স্বেচ্ছাসেবী দল জানায়, ২০২৪ সালের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ বাহিনীর তথ্যভান্ডারের লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ডসহ সিডিএমএসের তথ্যগুলো ফাঁস হয়েছে। এতে অন্তত ১ লাখ ৮ হাজার ৪১৬ পুলিশ সদস্যের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে তাঁদের শনাক্তকরণ নম্বর, পদমর্যাদা, কর্মস্থল, যোগাযোগের নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মদিন, ঠিকানা, উচ্চতা, ওজন এবং বিশেষ চিহ্নিতকরণ চিহ্ন।
এছাড়া গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দুই লাখেরও বেশি তথ্য ফাঁস হয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডমিন প্যানেল এবং লগইন তথ্য। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, দুর্বল সাইবার নিরাপত্তার কারণে এসব তথ্য চুরি হচ্ছে, যা একাধিক দেশের তথ্য নিরাপত্তার জন্য বড় বিপদ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব তথ্য ফাঁস হওয়ার পেছনে রাশিয়ার তৈরি একটি ম্যালওয়্যার দায়ী, যা নকল সফটওয়্যার এবং ইমেইলের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে। এই ম্যালওয়্যারটি কোনো কম্পিউটারে প্রবেশ করলে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে এবং ব্যবহারকারী এটি বুঝতে পারেন না। এ ছাড়াও, দেশের বেশিরভাগ কম্পিউটার পাইরেটেড বা পুরোনো সংস্করণের অপারেটিং সিস্টেমে চলে, যেখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল।
এ ঘটনার পর সরকারের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ বিজিডি ই-গভ সার্ট এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি সতর্কতা অবলম্বন করেছে। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না।
জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, “প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারবার সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার তাগাদা দেওয়া হয়েছে, তবে বেশিরভাগই এটি গুরুত্ব দেয় না।” তিনি আরও জানান, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
এই সাইবার নিরাপত্তার খারাপ অবস্থা এবং তথ্য ফাঁসের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে, যেগুলোর সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
এখন সময় এসেছে, সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার, যাতে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়।

