প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পণ্য পাঠানোর নামে উচ্চ শুল্কের বিপুল পরিমাণ বিদেশি পণ্য অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বেনাপোলে চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা সামনে এসেছে। এ ঘটনায় কাস্টমসের এক কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার করা হয়েছে একটি ট্রাকভর্তি ভারতীয় পণ্য, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বেনাপোল কাস্টমস হাউসের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, ট্রাকচালক এবং তার সহকারী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অংশ হিসেবে সরকারি মালামাল পরিবহনের আড়ালে মূল্যবান বাণিজ্যিক পণ্য পাচারের চেষ্টা করছিলেন।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠানোর কথা বলে কাস্টমস গোডাউন থেকে একটি ট্রাকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য বের করা হয়েছে। পরে বেনাপোল বাজারসংলগ্ন দুর্গাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি আটক করা হয়।
অভিযানে ট্রাকের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, প্রসাধনী সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের উচ্চমূল্যের পণ্য উদ্ধার করা হয়। এসব পণ্য মূলত কাস্টমস কর্তৃপক্ষের জব্দকৃত মালামালের অংশ ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, উদ্ধার হওয়া পণ্যগুলোর একটি বড় অংশ বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির অভিযানে জব্দ করা হয়েছিল। এছাড়া আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে যাত্রীদের কাছ থেকে আটক হওয়া কিছু পণ্যও কাস্টমসের গুদামে সংরক্ষিত ছিল। সেই মালামালের একটি অংশ অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর কাস্টমস ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সরকারি হেফাজতে থাকা জব্দকৃত পণ্য কীভাবে গুদাম থেকে বের হলো এবং এর পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার করা মালামালের বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের কাজও চলছে। তদন্ত শেষে উদ্ধারকৃত চালানের বাজারমূল্য ও রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ট্রাকসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে জব্দকৃত পণ্যের হিসাব, সিজারমূল্য নির্ধারণ এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি শুধু চোরাচালানের ঘটনা নয়, বরং সরকারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার ভেতরে সংঘটিত একটি গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে গভীর তদন্তের দাবি উঠেছে।

