ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পরিচালক। আইপিএলের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব্ও পালন করেছেন। তাঁর আমলেই যাত্রা শুরু হয় ফ্র্যাঞ্চাইজি এ লিগের। তবে এমন সব দায়িত্বে থেকেও বিসিসিআই সহ-সভাপতি ললিত মোদি বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেননি।
বৈদেশিক মুদ্রা আইন (এফইএমএ) ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে ১০.৬৫ রুপি জরিমানা করে দেশটির এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৫ কোটি টাকা। কিন্তু এ জরিমানার অঙ্ক নিজে না পরিশোধ করে বিসিসিআইয়ের ঘাড়ে চাপাতে চেয়েছিলেন ললিত। এজন্য একটি পিটিশনও দিয়েছিল তিনি।
গত বৃহস্পতিবার, বিচারপতি এমএস সোনাক ও জিতেন্দ্র জেইনের ডিভিশন বেঞ্চ আদালত রায়ে ললিতের পিটিশনকে তাঁরা ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ ভুল ধারণা বলে উল্লেখ করেছেন। তার আবেদন খারিজ করে পাশাপাশি ইডি কর্তৃক ১৫ কোটি জরিমানা তো বহাল থাকছেই, পাশাপাশি ললিতকে আরও আরও ১ লাখ রুপি জরিমানা করেছে (মুম্বাই) বোম্বে হাইকোর্টের এ বেঞ্চ।
ললিত তাঁর পিটিশনে উল্লেখ করেছিলেন, তিনি বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আইপিএলের গভর্নিং বডি ও বিসিসিআইয়ের একটি উপকমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।
পিটিশনে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিসিসিআই তাঁকে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়নি। সেজন্য ইডি কর্তৃক জরিমানা বোর্ডের ওপর চাপাতে আবেদন করে।
কিন্তু হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০০৫ সালের একটি ঘটনার রায় উল্লেখ করে এবং ললিতের আবেদন খারিজ করে। ওই রায়ে বলা হয়েছে, ভারতের সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রের যে সংজ্ঞা দেওয়া আছে, বিসিসিআই সেটার অধীনে পড়ে না। হাইকোর্ট বেঞ্চ উল্লেখ করে, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে ২০১৮ সালে ললিত এ আবেদনটি করেছিল।
হাইকোর্ট বেঞ্চ জানায়, ‘ইডি যে জরিমানা করেছিল, আবেদনকারী (ললিত) সেটার কথিত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। কোনো পাবলিক ফাংশন ডিসচার্জ করার প্রশ্নই আসে না। এ উদ্দেশ্যে বিসিসিআইকে কোনো রিট জারি করা যাবে না।’

