যশোরের মনিরামপুর উপজেলার একটি সমবায়ী প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। জনসেবা উৎপাদন ও বিপণন সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের এই প্রতিষ্ঠানটি ১২৫ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে টাকা সংগ্রহ করে। তবে গ্রাহকরা তাদের টাকার মেয়াদ শেষে টাকা পাননি।
২০১৬ সালে সমিতি যশোর জেলা সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন পায়। কিন্তু সমিতি কোনো অনুমতি ছাড়া ফিক্সড ডিপোজিট ও মাসিক মুনাফাভিত্তিক স্কিম চালু করে। তাদের প্রলোভনমূলক অফারে অনেক লোক টাকার বিনিময়ে আকৃষ্ট হয়।
গ্রাহকরা বিভিন্ন মেয়াদী ফিক্সড ডিপোজিট স্কিমে টাকা জমা দেন। তারা ভালো লাভের আশ্বাস পেয়ে তাদের সঞ্চয় জমা দেন। তবে সময়মতো টাকার পরিমাণ বাড়ানো তো দূরের কথা, তাদের জমাকৃত টাকা ফেরতও দেওয়া হয়নি।
এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন শ্যামকুড় ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের ভাজা বিক্রেতা মাসুদুর রহমান। তিনি ২০১৯ সালে চার লাখ টাকা জমা দেন। কিন্তু এখনও পুরো টাকা পাননি। আমিনপুর গ্রামের পল্লিচিকিৎসক মনিরুজ্জামানও ২০১৯ সালে পাঁচ লাখ টাকা জমা দেন। তারও টাকা ফেরত পাওয়া হয়নি। তিনি এখনও মাত্র তিন লাখ টাকা পেয়েছেন।
এ ঘটনার পর, সমিতির অফিস হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। সাইনবোর্ড নামিয়ে সমিতির সভাপতি মাহাবুবুর রহমান এবং অন্যরা পালিয়ে যান। গ্রাহকরা তাদের পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য প্রতিবাদ করছেন কিন্তু কোনো সাড়া পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে সমিতির সেক্রেটারি এমএ গফ্ফার দাবি করেন, সমিতির সব টাকা সভাপতির হাতে ছিল। তিনি নিজের দায়মুক্তির জন্য মাহাবুবুর রহমানের কাছ থেকে লিখিত নিয়েছেন।
এখন সমিতির সভাপতি মাহাবুবুর রহমান টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য নিজের সম্পত্তি বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। তবে তিনি কোনো সময়সীমা দেননি।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, সমিতি কোনো অনুমতি ছাড়াই ফিক্সড ডিপোজিট চালায়। তাদের কার্যক্রমের কারণে ২০২৪ সালের জুনে সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।

