দেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ পাচার হচ্ছে, তার একটি উদাহরণ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, এক ব্যক্তি তার সন্তানের এক সেমিস্টারের টিউশন ফি হিসেবে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।
সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা হয়। প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভার বিষয় ছিল, “পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার, গৃহীত পদক্ষেপ ও চ্যালেঞ্জ”। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শফিকুল আলম।
তিনি বলেন- “বৈঠকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য উঠে এসেছে। এনবিআর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বিদেশে পড়তে যাওয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক তার সন্তানের নামে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন। এটা অবিশ্বাস্য!”
শফিকুল আলম আরও বলেন- “বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার জন্য বছরে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা লাগতে পারে। কিন্তু এক সেমিস্টারে ৪০০-৫০০ কোটি টাকা পাঠানো সত্যিই বিস্ময়কর। এটা কীভাবে সম্ভব?”
তিনি বলেন- “মানি লন্ডারিং সাধারণত ব্যাংকিং চ্যানেল, হুন্ডি বা অন্য কোনো উপায়ে হয়। কিন্তু এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, টিউশন ফি’র নামে বিশাল অঙ্কের টাকা পাচার হয়েছে। এটা নতুন ধরনের অর্থ পাচারের কৌশল।”
দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যে করেই হোক, এই টাকা ফিরিয়ে আনতে হবে। এটা বাংলাদেশের মানুষের টাকা। আমাদের পকেটের টাকা লুট করে তারা লন্ডনে একটার পর একটা বাড়ি কিনছে। আমাদের গরিব করে দিচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
এই তথ্য প্রকাশের পর সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ জানতে চায়, অর্থ পাচার ঠেকাতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে।

