পঞ্চগড়ে দেড় বছরের শিশুর গলায় ছুরি ধরে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার তিনমাইল সুরিভিটা এলাকার একটি চা বাগান সংলগ্ন স্থানে।
ভুক্তভোগী নারী (২৮) তার অসুস্থ শিশুসন্তানকে নিয়ে ইজিবাইকে করে বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে আরেকটি ইজিবাইক তাদের অনুসরণ করে এবং চালক, যিনি পরিচিত ছিলেন, তাদের থামতে বলেন। এরপর ছয়জন তাকে ও তার শিশুকে কাছের চা বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুর গলায় ছুরি ধরে তাকে ভয় দেখিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। চিৎকার করার চেষ্টা করলে ধর্ষকরা শিশুর গলায় ছুরি ধরে তাকে চুপ থাকতে বাধ্য করে। ধর্ষণের পর নারী অচেতন হয়ে পড়লে তাকে সড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা।
স্থানীয়রা শিশুর কান্নার শব্দ শুনে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নারী ও তার শিশুকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের চিকিৎসক আবুল কাশেম জানান, নারীর শরীরে নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নারী বর্তমানে শারীরিকভাবে স্থিতিশীল ও পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জনি ইসলাম (২৭), বিপ্লব হোসেন (২৫), মকছেদুল ইসলাম (৩৩) এবং সাদেকুল ইসলাম (২৮)। ভুক্তভোগী নারী চারজনকে চিনতে পেরেছেন এবং অজ্ঞাত দুজনসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আব্দুল্লা হিল জামান জানান, বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নারী অভিযোগ করেছেন, তিনি দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান কিন্তু তার কাছের লোকজন আপসের জন্য চাপ দিচ্ছেন।
এই ঘটনা দেয়ালে লেখা নারী অধিকার ও সামাজিক ন্যায়ের দাবির প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগের বিষয়। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নারীদের প্রতিবাদী উপস্থিতি এবং সমতার দাবি উঠেছিল কিন্তু এই নৃশংস ঘটনা দেখায় যে নারী নিরাপত্তা ও অধিকার এখনও অনেক দূরের স্বপ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্দোলনের চেতনা রাজনৈতিক এজেন্ডার কাছে ম্লান হয়ে গেছে এবং এই ধরনের ঘটনা সামাজিক ঐক্য ও ন্যায়বিচারের অভাবকে তুলে ধরে।

