ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ও কোলা ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের ১২৮ জনের বিরুদ্ধে ‘গায়েবি মামলা’ দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর, স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটা অঙ্কের বিনিময়ে মামলাটি রেকর্ড করেন কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোফাজ্জেল হোসেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১ জুন ভোরে কাবিলপুর গ্রামে বাদীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কিন্তু স্থানীয়দের ভাষ্য ভিন্ন। তারা বলছেন—সেদিন ওই এলাকায় এমন কিছু ঘটেনি।
মামলার এজাহারে কাবিলপুর গ্রামে বাড়িতে আগুন লাগানো ও তিনজনকে আহত করার অভিযোগ আনা হয়। তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, মামলায় যাদের আহত বলা হয়েছে, তারা ঘটনার সময় অন্য গ্রামে অবস্থান করছিলেন এবং পরে সংঘর্ষে আহত হন।
অবাক করার মতো তথ্য হলো—একজন ব্যক্তির নাম দুটি আলাদা সিরিয়ালে (৩১ ও ৮৮) আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এজাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওইদিন সকাল সাড়ে ৬টায় দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে আসামিরা বাড়িতে ঢুকে সাত লাখ টাকার আসবাব ভাঙচুর করেন। গরু, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ মিলিয়ে আরও প্রায় আট লাখ টাকার জিনিস লুটের কথাও বলা হয়।
তবে এই দাবির প্রমাণ হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা সাংবাদিকদের যেটুকু দেখিয়েছেন, তা ছিল রান্নাঘরের ছাউনির একটি পোড়া বাঁশের অংশ। অন্য কোথাও আগুন লাগার চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদক কাবিলপুর গ্রামের অন্তত ২০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, ১ জুন কোনো বাড়িতে অগ্নিসংযোগ হয়নি। বরং সেদিন বড় তালিয়ান গ্রামের শ্মশানঘাট এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছিল। সেখানে আহতদেরই মামলায় ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তারা আরও জানান, মামলার বাদী আব্দুল লতিফের বাড়িতে সেদিন কোনো লুটপাট হয়নি। তারা শুধু হাঁস-মুরগির ঘরে টিনে দুটি কোপের দাগ দেখেছেন। ঘরবাড়ির মালপত্রও নিজেরাই অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন বলে তাদের ধারণা।
থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি প্রথমে ১৪ জুন দাখিল করা হয়। কিন্তু সেটিতে একাধিক ভুল, গরমিল ও অসঙ্গতি থাকায় সংশোধনের পরামর্শ দেয় পুলিশ। তবে বাদী তা সংশোধন না করেই ২১ জুন মামলা রেকর্ড করিয়ে নেন, ঠিক ওসি শহিদুল ইসলামের বদলির পরদিনই।
কালীগঞ্জ থানার নতুন ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি এখানে যোগ দিই ২২ জুন। এর আগের দিন মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। মামলা মিথ্যা হলে তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কাবিলপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করেন, “হয়রানি ও মামলা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যেই ১২৮ জনের নাম দিয়ে এবং অজ্ঞাত ১৫০ জনকে যুক্ত করে এই মামলা করা হয়েছে।”
আরো অনেকে একে “পুরোপুরি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন” বলে অভিহিত করেন।

