দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাদেরই সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হকসহ বিটিআরসির সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ মোট ছয়জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগ, তারা আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট ও রেভিনিউ শেয়ার বেআইনিভাবে কমিয়ে রাষ্ট্রকে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন।
গতকাল বুধবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির পরিচালক জালাল উদ্দীন আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদকের ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা। ঘটনার সময় মো. জহুরুল হক বিটিআরসির কমিশনার ছিলেন এবং পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন:
- সাবেক চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস
- সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান
- সাবেক চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ
- সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হক
- সাবেক কমিশনার মো. রেজাউল কাদের
- মো. আমিনুল হাসান
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ সরকারের অনুমোদন ছাড়াই পরীক্ষামূলক কল রেট কমিয়ে ০.০৩ ডলার থেকে ০.০১৫ ডলার করেছে। একই সময়ে সরকারের রেভিনিউ শেয়ার ৫১.৭৫ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে নামানো হয়। একইসঙ্গে আইজিডব্লিউ অপারেটরের শেয়ার বেড়ে ১৩.২৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ করা হয়, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
ফলাফল হিসেবে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হিসাব করা হয়েছে:
- রেভিনিউ শেয়ার কমানোর ক্ষতি: ৩৮৩ কোটি ৭৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা
- কম রেটে কল আনায় ক্ষতি: ২,৯৪১ কোটি ৯৯ লাখ ৩৯ হাজার টাকা
- বৈদেশিক মুদ্রা না আনায় ক্ষতি: ৫,৬৮৫ কোটি ১ লাখ টাকা
মোট ক্ষতি: ৯,০১০ কোটি ৭৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৪০৯/৪১৮, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন দুর্নীতির পৃথক অনুসন্ধানও চলছে। তিনি ২০২১ সালের ১০ মার্চ দুদকে কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর পদত্যাগ করেন। ওইদিন দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ও কমিশনার আছিয়া খাতুনও পদত্যাগ করেন।

