জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল থেকে ২১ বোতল মদ উদ্ধার করেছে হল প্রশাসন। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হলের ৭২৩ নম্বর কক্ষে অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক জানান, কক্ষে মাদকদ্রব্য থাকার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিছানার নিচ ও টেবিলের লকার তল্লাশি করে মোট ২১ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় হল সংসদের কয়েকজন নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম ফজলে আজওয়াদ। তিনি সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫২তম ব্যাচের (তৃতীয় বর্ষ) শিক্ষার্থী। যদিও তিনি মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী, তবে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে অবস্থান করছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে ফজলে আজওয়াদ এসব মাদকদ্রব্য জামালপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করেছেন বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, মদ ব্যবসার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
এ বিষয়ে ফজলে আজওয়াদ বলেন, ‘আমি কোনো মদ ব্যবসায়ী না। থার্টি ফার্স্ট নাইটে বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি করার জন্য মদগুলো আনা হয়েছিল। কিন্তু এক বন্ধুর বাবার মৃত্যু হওয়ায় পার্টি করা সম্ভব হয়নি। সে কারণে রুমেই রেখে দেওয়া হয়েছিল।’
হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি যেহেতু এই হলের আবাসিক নন, তাই বিষয়টি মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রভোস্টকে অবহিত করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তারাই নেবেন।
শিক্ষার্থীদের তথ্য অনুযায়ী, ফজলে আজওয়াদ গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে মীর মশাররফ হোসেন হল সংসদে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সমাজসেবা সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছিলেন।
তবে এ ঘটনায় সংগঠনটির সঙ্গে অভিযুক্তের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ অন্তর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাত্রদলের কর্মী বা পদধারী নন। তাকে ছাত্রদলের সঙ্গে জড়িয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল একটি উন্মুক্ত প্যানেল গঠন করেছিল, যেখানে অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সংগঠনটি মাদক উদ্ধারের ঘটনায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

