বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’ (হিট) প্রকল্পের অগ্রগতি বিশ্বব্যাংক ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে। একসময় সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে বিবেচিত এই প্রকল্প এখন ‘মাঝারি মানের সন্তোষজনক’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।
আজ বুধবার (১ এপ্রিল) বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রকল্পটির সাম্প্রতিক অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও টাস্ক টিম লিডার টি এম আসাদুজ্জামান। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
টি এম আসাদুজ্জামান সভায় জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে হিট প্রকল্পকে বিশ্বব্যাংক ‘সমস্যাগ্রস্ত’ বা ‘রিয়েল প্রবলেম প্রজেক্ট’ হিসেবে দেখেছিল। তবে ২০২৪ সালের আগস্টের পর ইউজিসির কার্যকর উদ্যোগের ফলে প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি এসেছে। তার ‘ইমপ্লিমেন্টেশন স্ট্যাটাস অ্যান্ড রেজাল্টস রিপোর্ট ২০২৫’-এ প্রকল্পের বাস্তবায়নকে ‘মাঝারি মানের সন্তোষজনক’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “হিট প্রকল্প বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় বিশ্বব্যাংকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। এটি ভবিষ্যতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি জানান, এপ্রিল মাসে প্রকল্পের মধ্যবর্তী পর্যালোচনা (মিড-টার্ম রিভিউ) শুরু হবে এবং সময়মতো কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, “হিট প্রকল্প দেশের উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন এবং বিদ্যমান কাঠামোগত সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। নবীন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতিমধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। এই কার্যক্রমকে স্থায়ী করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অপরিহার্য।”
সভায় বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা জানান, আগামী দুই বছরে হিট প্রকল্পের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা হবে, শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে এবং আধুনিক ক্যাম্পাস উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের রূপান্তরের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি হিট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪,১৬০.৫৭ কোটি টাকা, যার ৫০.৯৬ শতাংশ অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ৪৯.০৪ শতাংশ দেবে বিশ্বব্যাংক।

