মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশ
দেশের মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হলেই দেশের জ্বালানি খাতে দ্রুত চাপ তৈরি হয়। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে জ্বালানির বিকল্প উৎস সীমিত হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে এই রুট নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড–এ অপরিশোধিত তেলের মজুত সীমিত। বর্তমান মজুত দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। অন্যদিকে, ডিজেলের মজুত আরও কম—মার্চের শুরুতে যা ছিল প্রায় ৯ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো।
রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকটের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ সারি, নির্দিষ্ট পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ, অনেকেই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন, সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে, এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে জ্বালানি রেশনিং, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয় বিবেচনায় রয়েছে।
সরকারি মহল থেকে জ্বালানি সংকট না থাকার কথা বলা হলেও, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশ পুরোপুরি জ্বালানি-শূন্য না হলেও ঝুঁকি বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও সরবরাহ অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে সামনে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

