বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। সংস্থাটি সম্ভাবনাময় খাতগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
বিডা জানিয়েছে, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী, কৃষিপণ্য, চামড়াজাত পণ্য এবং হোম টেক্সটাইল খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়াও, অচল ও রুগ্ন কারখানা পুনরায় সচল করা এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নেও সরকার নজর দিচ্ছে। তবে ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, বিনিয়োগ আসার আগে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক আলোচনা হলেও প্রত্যাশিত বিদেশি বিনিয়োগ আসে নি। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, স্বল্পমেয়াদি সরকারব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির কারণে ২০২৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগ জিডিপির মাত্র ০.৪ শতাংশে নেমে গেছে, যেখানে ভিয়েতনামে এ হার প্রায় ৪ শতাংশ এবং প্রতিবেশী অন্যান্য দেশে ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সঠিক খাত নির্বাচনকে ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, “আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থের প্রবাহ—এই তিনটি ক্ষেত্রেই স্থিতিশীলতা ও সাপ্লাই চেইনের ফোকাস দরকার। এটি পুরো ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের জন্য সহায়ক হবে।”
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএর দ্রুত বাস্তবায়ন। এছাড়াও এনবিআর-এর কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজন আছে।”
গত সাত মাস ধরে রপ্তানি খাতে কিছুটা মন্দাভাব থাকায়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) নতুন সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, “লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটি প্রোডাক্টস ও ফার্মাসিউটিক্যাল—এই খাতগুলো আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য এবং বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে ভবিষ্যতে সহায়তা করবে।”
বিডা জানিয়েছে, ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আওতায় সব খাতকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনা হবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের জন্য হিট ম্যাপও তৈরি করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট এবং অচল কারখানাগুলো ব্যক্তি মালিকানায় ছাড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, “চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান—এই হটস্পটগুলো আমাদের জন্য সম্ভাবনাময়। আইসিটি, এগ্রো প্রসেসিং এবং মেডিক্যাল ডিভাইস ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতগুলোই বিদেশি বিনিয়োগে অগ্রাধিকার পাবে।”
বিশ্ব পরিস্থিতির প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে বিনিয়োগ সাময়িকভাবে ধীরগতি হতে পারে। তবে চীন, তুরস্ক ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলো থেকে বড় বিনিয়োগ আসার আশা করছে বিডা।

