সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এখনও নির্ধারিত গতিতে এগোচ্ছে না। বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে (আরএডিপি) মোট বরাদ্দ রয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কিন্তু জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৬৩ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা, যা বাস্তবায়নের মাত্র ৩০.৩১ শতাংশ। জুন মাসের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা বা মোট বরাদ্দের প্রায় ৭০ শতাংশ খরচ করতে হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “অনেক প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে চললেও বাস্তব অগ্রগতি খুব সীমিত। বাস্তবায়ন হার ১০ শতাংশের নিচের প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। ৩০ শতাংশের কম অগ্রগতির প্রকল্পগুলোর যৌক্তিকতা নতুন করে যাচাই করা উচিত। অপ্রয়োজনীয় বা রাজনৈতিকভাবে প্রণীত প্রকল্প বাদ দিয়ে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মানবসম্পদ উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।”
আইএমইডির তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। ওই বছর পুরো বছরের ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। প্রথম আট মাসে ব্যয় হয়েছিল ৬৭ হাজার ৫৫৩ কোটি ২১ লাখ টাকা, যা বাস্তবায়নের ২৯.৮৭ শতাংশ।
চলতি বছরের আরএডিপিতে বরাদ্দ ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ হলেও জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৬৩ হাজার ৩২৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় খরচ কমেছে ৪ হাজার ২২৬ কোটি টাকা।
বিগত কয়েক বছরের বাস্তবায়ন ধারা অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের আট মাসে ব্যয় হয়েছিল ৮৫ হাজার ৬০২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা (৩৩.৬৫%), ২০২২-২৩ সালে ৮২ হাজার ১৬৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা (৩৪.৭৪%), আর ২০২১-২২ সালে ৮৪ হাজার ৭৬৫ কোটি ৭ লাখ টাকা (৩৮.৬০%)।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমইডি বিভাগের সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার প্রকল্পের অর্থছাড়ে কঠোর ছিলেন, তাই বাস্তবায়ন কম হয়েছে। নতুন সরকার এসেছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন প্রকল্প নিলে এডিপির বাস্তবায়ন বৃদ্ধি পাবে।”
আইএমইডির তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের আট মাসে এখনও এক টাকাও খরচ করা হয়নি সংসদবিষয়ক সচিবালয়ের বরাদ্দকৃত প্রকল্পে। বরাদ্দ ছিল ২০ লাখ টাকা। এছাড়া পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে বরাদ্দের ১০ শতাংশও খরচ করতে পারেনি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি), জননিরাপত্তা বিভাগ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

