দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী এস. আলম গ্রুপ সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেশের শীর্ষ ঋণখেলাপিদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সংবাদে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে ব্যবসা শুরু থেকে আমরা দেশের অর্থনীতি ও শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছি। পাশাপাশি জনগণের জীবনমান উন্নয়নে আমরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। দীর্ঘ এই সময় ধরে গ্রুপটি সর্বদা দেশের আইন, বিধি-বিধান ও ব্যাংকিং নীতিমালা মেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করেছে।
ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী নেওয়া ব্যাংকঋণ সবসময় সময়মতো পরিশোধ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আমাদের কোনো প্রতিষ্ঠান কখনো ঋণখেলাপি হয়নি। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে গ্রুপটি বারবার অপপ্রচার, ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং তথ্য বিকৃত উপস্থাপনার শিকার হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসত্য অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। এতে গ্রুপের ব্যাংক আমানত, ঋণ হিসাব এবং এলসি খোলার কার্যক্রমে অযৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ গ্রুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
৫ আগস্টের পরপরই গ্রুপের ব্যাংক ঋণ জোরপূর্বক খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ঋণকেও এস. আলম গ্রুপের নামে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিছু অডিট ফার্মের মাধ্যমে প্রাপ্ত মৌখিক তথ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রকৃত প্রতিবেদনে প্রায় ২ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকার অতিরঞ্জিত ঋণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ স্থায়ী আমানত সংরক্ষিত রয়েছে, যা বর্তমানে অবরুদ্ধ। যদি ব্যাংকগুলো হিসাব সমন্বয় করে যুক্তিসঙ্গত ডাউন পেমেন্ট এবং ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ প্রদান করে, তবে সব ঋণ নিয়মিত করা সম্ভব। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে বারবার আবেদন সত্ত্বেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। একই বিষয়ে একাধিক মামলা দায়ের পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।
এস. আলম গ্রুপ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, যদি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শিল্পগোষ্ঠী স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাতে পারে, তবে ব্যাংক ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ সম্ভব হবে। এর ফলে উৎপাদন কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত হবে, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান পুনর্বহাল হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব প্রবাহ সৃষ্টি হবে।
গ্রুপের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, একটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত শিল্পগোষ্ঠীকে প্রাসঙ্গিক বাস্তবতা বিবেচনা না করে ‘ঋণখেলাপি’ হিসেবে উপস্থাপন করা কেবল প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করে না, বরং দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

