দেড় বছরের বেশি সময় আড়ালে থাকার পর সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে হাজির হন এবং সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রায় ২০ মিনিটের শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড আবেদন নাকচ করে দেন এবং একইসঙ্গে তাঁর জামিন আবেদনও খারিজ করেন।
শুনানি শেষে তাঁকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় ভিড়ের মধ্যে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

তবে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি পড়ে যাননি বরং শেষ সিঁড়িতে পা বেঁকে গিয়েছিল এবং নারী পুলিশ সদস্যরা তাঁকে ধরে ফেলেন।
এর আগে ভোরে ঢাকার ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শিরীন শারমিন চৌধুরী-কে আটক করে মিন্টো রোডের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে রাজধানীর লালবাগ থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলাটি দায়ের করা হয় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায়। ওই ঘটনায় আন্দোলনকারী মো. আশরাফুল ফাহিম গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে বলেন, আসামি ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী’ ছিলেন এবং তদন্তের স্বার্থে তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, মামলায় তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই এবং ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁরা জামিনের আবেদন জানান।
শুনানি শেষে বিচারক উভয় আবেদনই নাকচ করে শিরীন শারমিন চৌধুরী-কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলাসহ তাঁর বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি ইতোমধ্যে নিষ্পত্তির পথে এবং বাকিগুলো তদন্তাধীন।

