আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ফ্ল্যাট কেনার সময় ক্রেতাদের অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন না করার দাবি জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সংগঠনটি পাশাপাশি পুরনো আয়কর অধ্যাদেশের ধারা ১৯ পুনঃপ্রবর্তনেরও প্রস্তাব দিয়েছে।
এ বিষয়ে রিহ্যাব নেতারা বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তাদের মতামত জানিয়েছেন। সভায় আবাসন, নির্মাণ, চামড়া, চা শিল্পসহ ১২টি খাতের সংগঠনও নিজ নিজ প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান কিছু প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দেন, আবার কিছু প্রস্তাব নাকচ করেন।
রিহ্যাব সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, জমি নিবন্ধনের কর কমানো হলে রাজস্ব আদায়ও বাড়বে। ভবন নির্মাণ ও জমি উন্নয়নের ক্ষেত্রে গেইনকর, স্ট্যাম্প শুল্ক ও ফ্ল্যাটে ২ শতাংশ মূসক ধার্য করার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার কারণে কংক্রিট ব্লক ভ্যাটমুক্ত রাখার দাবি জানান তিনি।
সিনিয়র সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, প্রবাসীদের অনেকেই ভুলে বা না বুঝে প্রেরিত অর্থ ঘোষণা করেননি। ফলে তা এনবিআরের কাছে কালো অর্থ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এর ফলে কেউ কেউ এই অর্থ বাইরে বিনিয়োগ করছেন।
রিহ্যাব জানিয়েছে, দেশে সেকেন্ডারি ফ্ল্যাট মার্কেট নেই। নিবন্ধন ফি ও ট্যাক্স মিলিয়ে ৪.৫ শতাংশ হারে পুনঃবিক্রয় ব্যবস্থা থাকলে সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে উঠবে। এতে একই ফ্ল্যাটের হাতবদলে রাজস্বও বাড়বে। এছাড়া নগরায়ণ উৎসাহিত করতে ঢাকা ও অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় পাঁচ বছর, পৌরসভার বাইরের এলাকায় ১০ বছরের ট্যাক্স হলিডেরও দাবি করেছেন তারা।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, জমির নিবন্ধন খরচ বিক্রেতার দেওয়া উচিত। ক্রেতার ওপর চাপানো ঠিক নয়। প্রবাসীদের কালো টাকা বৈধ করার প্রস্তাব নাকচ করে তিনি বলেন, এখন বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো সহজ এবং প্রণোদনাও রয়েছে। তাই প্রবাসীদের নির্ধারিত হারে কর দিয়ে অর্থ বৈধ করতে হবে।
সিমেন্ট খাতের প্রতিনিধি বিসিএমএ সভাপতি আমিরুল হক বলেন, সিমেন্ট ক্লিংকার আমদানি শুল্ক টনপ্রতি ৫০০ টাকায় নির্ধারণ করা উচিত। এছাড়া ক্লিংকার, স্লাগ, লাইমস্টোন, ফ্লাই অ্যাশ ও জিপসাম আমদানিতে বিদ্যমান ২–৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা প্রয়োজন। এর ফলে সিমেন্টের দাম কমবে এবং উৎপাদনকারীদের মূলধন ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।
বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএলডিএ) বলেন, মৌজার মূল্য সরেজমিন দেখে নির্ধারণ করা হোক। সচিব একেএম নওশেরুল আলম জানান, প্রতি শতাংশ জমিতে দেড় লাখ টাকা উৎসে কর দেওয়া হয়। এটি দলিল মূল্যের ৩ শতাংশে নির্ধারণ করা যেতে পারে। এনবিআর চেয়ারম্যান জোর দিয়ে বলেন, দলিলমূল্য হতে হবে প্রকৃত, যাতে ক্রেতা-বিক্রেতা সঠিক তথ্য দিয়ে কর দিতে পারেন।
সিরামিক খাতের বিসিএমইএ জানিয়েছে, চায়না ক্লে ও বল ক্লের সঙ্গে পরিবহন ও আবহাওয়ার কারণে পানি ও অব্যবহার্য রাসায়নিক মিশে শুল্ক বাড়ছে। তাই শুল্ক নির্ধারণ প্রকৃত কাঁচামালের ওপর ভিত্তি করে হোক।
চামড়া খাতের বিএফএলএলএফইএ জানিয়েছে, চামড়া খাতও শতভাগ রপ্তানিমুখী। করপোরেট কর কমিয়ে পোশাক খাতের সমান করা দরকার। এছাড়া উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি কার্যকর করার জন্য বাজেটে বরাদ্দের প্রস্তাবও দিয়েছে। ট্যানারি খাতের বিটিএও রাসায়নিক আমদানি ও সিইটিপি যন্ত্রাংশ আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
ওষুধ খাতের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ দীর্ঘমেয়াদী নীতি সহায়তা ও কাঁচামাল আমদানি শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছে। প্রাক-বাজেট আলোচনায় টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন, প্লাস্টিক ও রাবার জুতা মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনও শুল্ক, কর ও ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব তুলে ধরেছে।

