আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব–এর পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন এবার হতে যাচ্ছে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। প্রথমবারের মতো সংগঠনটির সভাপতি, ৬ জন সহসভাপতি এবং ১৯ জন পরিচালক—সব পদেই সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। মোট ২৯টি পদের বিপরীতে এবার প্রার্থী হয়েছেন ৭৭ জন ব্যবসায়ী। তাঁদের মধ্যে তিনটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের পাশাপাশি রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও।
আগামী ১৮ এপ্রিল শনিবার রাজধানীর ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল–এ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৭৪ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৬১৩ জন এবং চট্টগ্রামের ৬১ জন ভোটার রয়েছেন।
নির্বাচনী মাঠে এবার সক্রিয় রয়েছে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল—আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ এবং প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ। এর বাইরে জাগরণ নামে আরেকটি জোট ১৩ সদস্যের একটি খণ্ডিত প্যানেল দিয়েছে। পাশাপাশি সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন নবো উদ্যোগ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল খায়ের। এছাড়া তিনজন স্বতন্ত্র পরিচালক প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
এক সময় রিহ্যাব–এর নির্বাচন ছিল উৎসবমুখর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তবে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সেই ধারায় পরিবর্তন আসে। ২০১৪ সালে কোনো ভোট ছাড়াই আলমগীর শামসুল আলামিন সভাপতি হন। এরপর টানা তিন মেয়াদে সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি গঠিত হয়। প্রায় এক দশক পর ২০২৪ সালে আবারও ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ জয়ী হয় এবং মো. ওয়াহিদুজ্জামান সভাপতি নির্বাচিত হন।
জানা গেছে, বর্তমান পর্ষদ তাদের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই নতুন নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়। সেই অনুযায়ী গত বছর তফসিল ঘোষণা করা হয়। শুরুতে ভোট গ্রহণের তারিখ ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে তা প্রায় দুই মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়।
এবারের নির্বাচনে আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্যানেল লিডার ও বর্তমান সভাপতি হিসেবে আবারও প্রার্থী হয়েছেন মো. ওয়াহিদুজ্জামান। সহসভাপতি পদে তাঁর প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়েছেন লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. মহসিন মিয়া, শেখ মো. শোয়েব উদ্দীন এবং মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান। এই প্যানেলের পরিচালক পদে রয়েছেন তরুণ ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দুইজন নারী আবাসন ব্যবসায়ীও।
বর্তমান সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, তিনি রিহ্যাব–এ নির্বাচনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সময়মতো নির্বাচন আয়োজন করেছেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তাঁর দাবি অনুযায়ী গত দুই বছরে ড্যাপ সংশোধন, সরকারি ইজারা নেওয়া জমির নামজারি অনুমোদন ছাড়াই সম্পন্ন করার সুবিধা এবং গৃহঋণের সীমা ২ কোটি টাকা থেকে ৪ কোটি টাকায় উন্নীত করার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ড্যাপে কিছু ত্রুটি থাকায় তা সংশোধনের কাজও চলবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে নতুন মুখ নিয়ে মাঠে এসেছে প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ। এ প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের চেয়ারম্যান মো. আলী আফজাল। সহসভাপতি পদে তাঁর প্যানেলে রয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, মো. শেখ সাদি, আবু খালেদ মো. বরকতুল্লাহ, এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ, মো. হারুন অর রশীদ এবং নূর উদ্দিন আহমেদ।
এই প্যানেলের প্রার্থী মো. আলী আফজাল বলেন, নির্বাচিত হলে রিহ্যাব–এর নিজস্ব ভবন নির্মাণ, ব্যয় সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ভবন নিয়ে গবেষণা সেল গঠন এবং সংগঠনের স্কুলকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সদস্যদের ব্যবসা সহজ করতে হটলাইন চালুর কথাও জানান তিনি।
এদিকে জাগরণ প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন ক্যাপিটাল ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খান। সহসভাপতি পদে তাঁর প্যানেলে রয়েছেন আবদুল লতিফ, এ এম মহিব উদ্দীন, এস এম জাহিদুল ইসলাম, মো. রেজাউল করিম খান ও মো. শাহদাৎ হোসেন। এছাড়া এই প্যানেল থেকে পরিচালক পদে সাতজন প্রার্থী রয়েছেন।
মোকাররম হোসেন খান বলেন, জয়ী হলে রিহ্যাব–কে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্র শক্তিশালী করা এবং ড্যাপ সংশোধনে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি। খণ্ডিত প্যানেল নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ প্যানেল না থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ সভাপতি ও সহসভাপতি পদেই তাঁরা প্রার্থী দিয়েছেন।

