বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ১৪ জন সদস্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্ধারিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং-৪৬)’ এর অনুচ্ছেদ ৮ অনুযায়ী।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৯ মে ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটকেন্দ্রের বিন্যাস: নির্বাচনের জন্য ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে তিন ধরনের স্থানে—
ঢাকায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন, শাহবাগে একটি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
দেশের প্রতিটি জেলা সদরের দেওয়ানি আদালত প্রাঙ্গণে পৃথক একটি করে ভোটকেন্দ্র থাকবে।
এছাড়া বাজিতপুর, ইশ্বরগঞ্জ, দুর্গাপুর, ভাঙ্গা, চিকন্দি, পটিয়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, নবীনগর ও পাইকগাছা দেওয়ানি আদালতেও আলাদা ভোটকেন্দ্র থাকবে।
সদস্য নির্বাচনের কাঠামো: এই নির্বাচনে মোট ১৪ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন। এর মধ্যে—
- ৭ জন নির্বাচিত হবেন সাধারণ আসন (জেনারেল সীট) থেকে।
- অবশিষ্ট ৭ জন নির্বাচিত হবেন ৭টি পৃথক গ্রুপ সীট থেকে, প্রতিটি গ্রুপ থেকে ১ জন করে।
গ্রুপ সীটের বিভাজন: গ্রুপভিত্তিক আসনগুলো নিম্নরূপভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে—
(এ) বৃহত্তর ঢাকা জেলার সকল লোকাল বার সমিতি
(বি) বৃহত্তর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও ফরিদপুর জেলার অন্তর্গত সকল লোকাল আইনজীবী সমিতি
(সি) বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত সকল লোকাল আইনজীবী সমিতি
(ডি) বৃহত্তর কুমিল্লা ও সিলেট জেলার অন্তর্গত সকল লোকাল আইনজীবী সমিতি
(ই) বৃহত্তর খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার অন্তর্গত সকল লোকাল আইনজীবী সমিতি
(এফ) বৃহত্তর রাজশাহী, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্গত সকল লোকাল আইনজীবী সমিতি
(জি) বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও পাবনা জেলার অন্তর্গত সকল লোকাল আইনজীবী সমিতি
এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ব্যতীত দেশের অন্যান্য সব সমিতিকে লোকাল আইনজীবী সমিতি হিসেবে গণ্য করা হবে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও শর্ত:
- প্রার্থী হতে হলে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে ৩ জন ভোটারের স্বাক্ষর সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
- প্রতিটি মনোনয়নের সঙ্গে ১০০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার জমা দিতে হবে, যা ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিল’-এর অনুকূলে প্রদানযোগ্য।
- একটি ফরমে শুধুমাত্র একজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা যাবে। একাধিক নাম বা ভুল তথ্য থাকলে মনোনয়ন বাতিল করা হবে।
একজন ভোটারের ক্ষেত্রে—
০১. জেনারেল সীটের জন্য সর্বোচ্চ ৭টি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করার সুযোগ থাকবে।
০২. গ্রুপ সীটের ক্ষেত্রে একজন ভোটার কেবল একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করতে পারবেন।
প্রার্থিতার অযোগ্যতা:
আইন অনুযায়ী, কোনো অ্যাডভোকেট যদি পরপর দুইবার বার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে থাকেন, তবে তিনি পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এটি ‘বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২’ এর অনুচ্ছেদ ৫এ(২) অনুযায়ী নির্ধারিত।
ভোটার তালিকা ও ভোটাধিকার:
বার কাউন্সিল সনদপ্রাপ্ত এবং অনুমোদিত বার সমিতির সদস্যরা ভোটার হিসেবে গণ্য হবেন। একই সঙ্গে বিধি ৭৩এ অনুযায়ী সনদপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেটরাও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।
ভোট প্রদানের নিয়ম ও পরিচয়পত্র: ভোট দেওয়ার সময় ভোটারকে নিম্নের যেকোনো একটি পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে—
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- পাসপোর্ট
- বার অ্যাসোসিয়েশন সদস্য পরিচয়পত্র
সুপ্রিম কোর্ট ও পার্বত্য জেলা—খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির ভোটাররা কেবল ৭টি জেনারেল ভোট দিতে পারবেন।
অন্যান্য ভোটাররা ৭টি জেনারেল ভোটের পাশাপাশি নিজ নিজ গ্রুপে ১টি করে ভোট দিতে পারবেন।
পোলিং এজেন্ট সংক্রান্ত বিধান:
পোলিং এজেন্টরা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ভোট প্রদানে অংশ নিতে পারবেন। গ্রুপ সীটের জন্য নিয়োজিত এজেন্টকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট গ্রুপের ভোটার হতে হবে।
নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল: নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এর সদস্যরা হলেন—
০১. বিচারপতি এ.এফ.এম আব্দুর রহমান (অবসরপ্রাপ্ত) – চেয়ারম্যান
০২. অ্যাডভোকেট মোঃ ইকবাল হোসেন – সদস্য
০৩. অ্যাডভোকেট গাজী তৌহিদুল ইসলাম – সদস্য
নির্বাচনী সময়সূচি:
- মনোনয়নপত্র জমা: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে ১৬ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ৪টা পর্যন্ত
- মনোনয়ন বাছাই: ২৩ এপ্রিল ২০২৬
- প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ৩০ এপ্রিল ২০২৬
- ভোটগ্রহণ: ১৯ মে ২০২৬ (সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা)
- ফলাফলের বিরুদ্ধে আপত্তি: গেজেটে প্রকাশের এক মাসের মধ্যে
- আপত্তি গ্রহণ শুরু: ০৭ জুলাই ২০২৬
ভোটার তালিকা সংগ্রহ: ভোটার তালিকার প্রতিটি সেট ৩৫০০ টাকায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কার্যালয়, শাহবাগ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

