মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল। তিনি বলেছেন, সংঘাত যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ নতুন করে খাদ্য সংকটে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
১৫ এপ্রিল সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফ–বিশ্বব্যাংক স্প্রিং মিটিংসের ফাঁকে এই কথা বলেন তিনি। গিল জানান, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তায় ভুগছে। তার আশঙ্কা, পরিস্থিতির অবনতি হলে এই সংখ্যা দ্রুত প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, সংঘাতের কারণে যদি হরমুজ প্রণালি বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে। এর প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়বে সার উৎপাদনে। কারণ অধিকাংশ সার তৈরিতে তেলনির্ভর উপাদান ব্যবহৃত হয়। এতে সার দাম বেড়ে গিয়ে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অনেক দেশ নিজেদের খাদ্য মজুত নিশ্চিত করতে রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ করে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এতে বৈশ্বিক খাদ্যবাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হবে। গিল বলেন, “রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আমাদের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়।”
তিনি আরও জানান, বর্তমান সময়ে বাজারে যে খাদ্য সরবরাহ রয়েছে, তা আগেই উৎপাদিত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। তবে প্রকৃত চাপ ও প্রভাব কয়েক মাস পর স্পষ্ট হয়ে উঠবে, যখন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার প্রভাব বাজারে দেখা দেবে।
গিলের মতে, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে ক্ষুধার ঝুঁকি দ্রুত বাড়বে। বর্তমানে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে এশিয়ায়। পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে তা আফ্রিকায়ও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
একই সঙ্গে তিনি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, সংকট আরও গভীর হলে চলতি বছরে বিশ্বে গড় মূল্যস্ফীতি প্রায় ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

