চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকার বাজেট সহায়তা দেবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে আরও প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। উজবেকিস্তানের সমরখন্দে অনুষ্ঠিত এডিবির বার্ষিক সভায় অংশ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে হলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এবং সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য। তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব ধরনের প্রকল্প, সহায়তা ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে বাজেট সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তার ভাষ্য, সরকার পরিবর্তনের পর স্বল্প সময়ের মধ্যে বাজেট প্রস্তুত করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল অর্থনৈতিক সূচক, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার চাপ। এসব পরিস্থিতির মধ্যে দেড় মাসে একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট তৈরি করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আসন্ন বাজেটে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি বা অর্থনীতির ‘ডেমোক্রেটাইজেশন’-কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। অতীতে যেসব গোষ্ঠী বাজেট সুবিধার বাইরে ছিল, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে অর্থনৈতিক সুফল পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি খাতে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির দিক থেকেও বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।
এই প্রেক্ষাপটে এডিবির কাছে আরও বেশি আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সমরখন্দে অনুষ্ঠিত এডিবির গভর্নরস বিজনেস সেশনে অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি সময়োপযোগী বাজেট সহায়তার জন্য এডিবিকে ধন্যবাদ জানান এবং বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় কাউন্টার-সাইক্লিক্যাল অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

