বাংলাদেশে নবম পে-স্কেল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, আর এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বড় প্রস্তাব। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত বেতন কমিশন একটি বিস্তৃত সুপারিশমালা জমা দিয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
এই প্রস্তাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের কাঠামোয় বড় ধরনের সংশোধন। কমিশন সুপারিশ করেছে, বর্তমান সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হোক। একইভাবে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নিম্ন ও উচ্চ—দুই স্তরেই বেতন প্রায় দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই প্রস্তাবের মাধ্যমে শুধু বেতন বাড়ানোই নয়, বরং বেতনের বৈষম্য কমানোর দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ছিল ১:৯.৪, সেখানে নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ১:৮ করার সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের মধ্যে ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
কমিশনের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বেতন বৃদ্ধি ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে বড় এই পরিবর্তনের মধ্যেও বর্তমানের ২০টি গ্রেড কাঠামো বহাল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
এদিকে এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন সহজ বিষয় নয়। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন কাঠামো কার্যকর করতে গেলে অতিরিক্ত আরও ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। ফলে এটি শুধু প্রশাসনিক নয়, বড় একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তও বটে।
এই কারণেই বিষয়টি চূড়ান্ত করার আগে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণ করবে। তাদের সুপারিশের ওপরই নির্ভর করবে, এই প্রস্তাব বাস্তবে কতটা এবং কীভাবে কার্যকর হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নবম পে-স্কেলের এই প্রস্তাব শুধু বেতন বৃদ্ধির খবর নয়—এটি দেশের অর্থনীতি, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এই প্রস্তাব কতটা গ্রহণ করে এবং বাস্তবায়নের পথে কত দ্রুত এগোয়।

