সরকার বর্তমানে অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি ‘জরুরি সংকট মোকাবিলা’ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আধুনিকায়ন এবং রফতানি খাতে বৈচিত্র্য আনার মতো দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের কাজও সমান গতিতে এগিয়ে চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবাকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় এনে দুর্নীতি কমানো এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তার ভাষায়, দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরাতে অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন হবে। গতকাল ঢাকার একটি হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘সোনার বাংলা নীতি আলোচনা ২০২৬’-এ তিনি এসব কথা বলেন।
এ বছর থেকে বণিক বার্তা ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পথরেখা বিশ্লেষণের অংশ হিসেবে ‘সোনার বাংলা নীতি আলোচনা’ শুরু করেছে। প্রথম আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল—বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথরেখা।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও শীর্ষ নির্বাহীরা।
আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, প্রথম বছরটি কঠিন হবে এবং এটি মূলত সংকট মোকাবিলার সময়। তিনি জানান, স্পট বাজার থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করতে অতিরিক্ত চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, ফলে সরকারের ব্যয় সক্ষমতা কমে গেছে। তবে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি যেমন পরিবার কার্ড ও কৃষি উপকরণে ভর্তুকিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে যাতে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল থাকে।
প্রবাস আয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে কম দক্ষ কর্মী বিদেশে যাওয়ায় আয় প্রত্যাশিত মাত্রায় আসছে না। দক্ষ জনবল পাঠাতে পারলে অর্ধেক জনবল দিয়েই দ্বিগুণ প্রবাস আয় অর্জন সম্ভব। এ লক্ষ্যেই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি ও সনদায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট—এই তিনটি মৌলিক অবকাঠামোতে আগে গুরুত্ব না দেওয়াই বড় ভুল ছিল। এসব খাতে আগে বিনিয়োগ হলে অর্থনীতিকে আলাদা করে টেনে নেওয়ার প্রয়োজন হতো না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভবিষ্যৎ রফতানি সম্ভাবনার প্রসঙ্গে ভিয়েতনামের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ইলেকট্রনিকস খাতে ছোট পরিসর থেকে শুরু করে দেশটি এখন বড় রফতানি শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস ও হালকা প্রকৌশল খাতেও একই সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, রফতানিমুখী সব শিল্পকে গার্মেন্টস খাতের মতো সুবিধা দেওয়া হবে। শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি ও রফতানির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে সহজ করা হবে।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান বলেন, দেশের করভিত্তি এখনো অনেক ছোট, যা প্রায় দশ থেকে পনেরো শতাংশ। বাজেট বাস্তবায়নের দুর্বলতা এবং কর-জিডিপি অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি রাজস্ব আদায় ও লক্ষ্যমাত্রার ব্যবধান কমাতে কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নীতিনির্ধারণের পরিকল্পনা ভালো হলেও বাস্তবায়নে বড় ঘাটতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মোট পরিকল্পনার মাত্র এক-পঞ্চমাংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ বাস্তবায়ন হয়। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী কর না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, কর বাড়ালে পণ্যের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে এবং রফতানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক বলেন, কর ব্যবস্থায় পাঁচ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা থাকা জরুরি, যাতে বিনিয়োগকারীরা স্থিতিশীলতার ধারণা পান। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে মানবসম্পদ উন্নয়ন এখন অত্যন্ত জরুরি।
ভারতীয় হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পাওয়ান কুমার বঢ়ে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাণিজ্য, জ্বালানি সংযোগ ও সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, ব্যবসা সহজ করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া আরও জটিল হচ্ছে, যা জাতীয় উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান রফতানি খাতের বহুমাত্রিক প্রভাব বা মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, রফতানি বাড়লে একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও বৃদ্ধি পাবে। তাই এ খাতকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এবং ডেল্টা এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক লজিস্টিকস খাতে উচ্চ ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে লজিস্টিকস খাতে জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ ব্যয় হয়, অথচ কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। এই বৈষম্যকে ‘অস্বাভাবিক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত ১২ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন।
কোকা-কোলা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাদাব আহমেদ খান সফট ড্রিংকস খাতের করনীতি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাজার ছোট হলেও এই খাত থেকে সরকার তুলনামূলকভাবে বেশি কর আদায় করছে। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নীতিগত স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। কৃষি খাতে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাওর অঞ্চলে বন্যা ও খাদ্যঝুঁকির বাস্তব চিত্র বিবেচনায় আগামী বাজেটে কৃষিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, দেশের মোট রফতানির বড় অংশ এবং জিডিপির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আসে টেক্সটাইল খাত থেকে। বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও উৎপাদন সচল রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে বিদেশে অর্থ প্রবাহ কমাতে স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী। তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ বিদেশে চলে যাচ্ছে, যা দেশে ধরে রাখতে স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থা জরুরি।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহীর বলেন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। স্থানীয় উদ্যোক্তারা প্রস্তুত থাকলেও অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তাকে শিল্পায়নের প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ ছাড়া উৎপাদন ও শিল্পায়ন এগিয়ে নেওয়া কঠিন।
তরুণদের কৃষিতে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, কর্মসংস্থানের আলোচনায় কৃষিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। গণসংহতি আন্দোলনের নেতা তাসলিমা আখতার নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে, থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেমসের নির্বাহী পরিচালক বাসব পি বাগচী বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে এবং বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দেশটির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। অনুষ্ঠান শেষে এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন খাতে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং অর্থনৈতিক গতি বাড়বে।
অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতি, নীতি সংস্কার ও উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় সরকারি-বেসরকারি খাতের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেছে।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এসএম শাকিল আখতার, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া ও নির্বাহী পরিচালক মো. তারেক কামাল, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদসহ প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বহু কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া অর্থনৈতিক গবেষণা ও শিক্ষা খাত থেকে অংশ নেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক আবু আহমেদ, ড. সাজ্জাদ জহির, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপক ও গবেষকরা। তাদের মধ্যে ছিলেন বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, এআইইউবি ও নোবিপ্রবিসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ শিক্ষক ও প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকিং খাত থেকেও ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়। সাউথইস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ইউসিবি, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ও করপোরেট পর্যায়ের শীর্ষ নির্বাহীরাও আলোচনায় অংশ নেন।
রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও নীতিনির্ধারক উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে সংরক্ষিত নারী আসনের একাধিক সংসদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আলোচনায় যোগ দেন। সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বিভিন্ন গবেষণা ও সংস্কারমুখী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র আন্দোলন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আলোচনাকে আরও বিস্তৃত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন উন্নয়ন সংস্থা, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সেক্টরের পেশাজীবীরা। তাদের মধ্যে অনেকে নীতি বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ পরিবেশ, জ্বালানি সংকট, কর কাঠামো, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এসটিএস গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ এ মঈন, জাপান বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তারেক রফি ভূঁইয়া, সহসভাপতি আনোয়ার শহীদ, হিরোয়াকি ওউরা, ট্রেজারার কেনজি কিমুরা, পরিচালক মানাবু সুগাওয়ারা, হিরোশি উয়েগাকি ও আতশুসী হিরাকুরি অংশ নেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের লেবার অ্যাটাশে লীনা উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পখাত থেকে উপস্থিত ছিলেন জিপিএইচ ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএসএমএ সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, টি.কে. গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার, ক্রাউন সিমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলমগীর কবির, ম্যাফ শুজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসনাত মোহাম্মদ আবু ওবায়দা, বিএসআরএম গ্রুপের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স প্রধান প্রকৌশলী সৌমিত্র কুমার মুৎসুদ্দি। এছাড়া যশোর চেম্বারের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, এমইউসি ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস এবং যশোর সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা অংশ নেন।
পুঁজিবাজার খাত থেকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, স্বতন্ত্র পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম এবং প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান। অ্যাকাউন্টিং ও ফাইন্যান্স খাত থেকে আইসিএবির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. রোকনুজ্জামান, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান এবং বিভিন্ন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত থেকে এনার্জিপ্যাক পাওয়ারের এমডি ও সিইও হুমায়ুন রশীদ, সায়হাম নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাফকাত আহমেদ, সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ারের এমডি ও সিইও মো. রিয়াজ উদ্দিন অংশ নেন। আর্থিক খাত থেকে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ পাভেল, ডিবিএইচ ফাইন্যান্সের এমডি ও সিইও নাসিমুল বাতেন, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের এমডি কায়সার হামিদ, আইপিডিসি ফাইন্যান্সের এমডি রিজওয়ান দাউদ সামস, অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সের সিইও কান্তি কুমার সাহা এবং মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলা আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
পুঁজিবাজার ও ব্রোকারেজ খাত থেকেও ছিল ব্যাপক অংশগ্রহণ। কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজের সিইও মো. আরিফুল ইসলাম, সার্ক চেম্বারের পরিচালক আমজাদ হোসেন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও খন্দকার সাফফাত রেজা উপস্থিত ছিলেন।

