দেশের অর্থনীতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরতে পারেনি বলে মনে করছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। সংগঠনটির মতে, অর্থনীতি বর্তমানে ধীরগতির প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক খাতের চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
আজ প্রকাশিত জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এমসিসিআই বলেছে, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এখনও দুর্বলতা স্পষ্ট। বিশেষ করে শিল্প খাতের মন্থর গতি, বেসরকারি খাতের সতর্ক অবস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের শেষ দিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে সেই প্রভাব পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে এখনও সতর্কতা বজায় রয়েছে।
এমসিসিআই জানায়, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল ছিল। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগেও স্থবিরতা দেখা গেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতির কারণে ঋণপ্রবাহ সীমিত হয়েছে, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। এতে আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেন ও মূল্যস্ফীতির ওপর।
তবে এই চাপের মধ্যেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও বৈদেশিক খাতে একটি সীমিত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখছে।
এমসিসিআইয়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সামষ্টিক অর্থনীতির কয়েকটি সূচকে ধীরে ধীরে উন্নতির আভাস মিলছে। তবুও পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া এখনও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। দেশীয় ও বৈশ্বিক নানা ঝুঁকির মধ্যেই অর্থনীতি এগোচ্ছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

