মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। নতুন এক গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা তাদের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি আবারও সচল করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে অঞ্চলটিতে ইরানের সামরিক উপস্থিতি ও প্রভাব নতুন করে শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে অন্তত ৩০টিতে আবারও প্রবেশাধিকার ও কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করেছে তেহরান। ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল-ও একই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান এসব ঘাঁটিতে মোবাইল লঞ্চার ব্যবহার করছে। অর্থাৎ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। এতে শত্রুপক্ষের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে এবং হামলার পরও দ্রুত পুনর্গঠন সম্ভব হয়।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, কয়েকটি ঘাঁটিতে এমন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যেখান থেকে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা যায়। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ কিংবা সামরিক নৌবহর খুব দ্রুত আক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ৩৩টি ঘাঁটির মধ্যে এখন মাত্র ৩টি পুরোপুরি অকার্যকর বা ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। বাকি ৩০টি ঘাঁটি সচল থাকায় তেহরান আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিজেদের শক্ত অবস্থান ফিরিয়ে এনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই খবর শুধু সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় উদ্বেগের বিষয়। কারণ বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই জলপথে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল-এর মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। হামলা-পাল্টা হামলা, যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক চাপের মধ্যেই এখন হরমুজ প্রণালি আবারও কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠছে।
ইরানের সামরিক কৌশলের বড় অংশই দীর্ঘদিন ধরে এই জলপথ ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। তেহরান বরাবরই দাবি করে এসেছে, তাদের সার্বভৌম স্বার্থ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সামরিক প্রস্তুতি। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এটিকে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই এই ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি কার্যকর করতে সক্ষম হয়ে থাকে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য আবারও নতুন করে বদলে যেতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক নৌ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও বাড়বে।

