বাংলাদেশ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় অর্জন করেছে। এ সময় মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০৩২ কোটি মার্কিন ডলার। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং অর্থনীতিকে সচল রাখতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই অবদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের চতুর্দশ বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই তথ্য উপস্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রশ্নোত্তর পর্বটি পরে টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বিদায়ী অর্থবছরে দেশটি থেকে এসেছে প্রায় ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৫.৬ শতাংশ।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব। দেশটি থেকে এসেছে প্রায় ৪২৬ কোটি মার্কিন ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে প্রায় ৪১৭ কোটি মার্কিন ডলার। শীর্ষ তিন দেশ মিলিয়ে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩১৬ কোটি মার্কিন ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৪৩.৪ শতাংশ। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে এসেছে প্রায় ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার। এরপর মালয়েশিয়া থেকে এসেছে প্রায় ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার।
মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার থেকেও বড় অংশের রেমিট্যান্স এসেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইন মিলিয়ে এসেছে প্রায় ১৩৬৬ কোটি মার্কিন ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৫ শতাংশ।
ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য। ইতালি থেকে এসেছে প্রায় ১৬৫ কোটি মার্কিন ডলার। ফ্রান্স থেকে ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার, গ্রিস থেকে ১৮ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার, জার্মানি থেকে ১৮ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলার এবং পর্তুগাল থেকে এসেছে ১০ কোটি ২৪ লাখ মার্কিন ডলার।
প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এসেছে প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, কানাডা থেকে ২২ কোটি ৩৯ লাখ মার্কিন ডলার, অস্ট্রেলিয়া থেকে ১৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার এবং জর্ডান থেকে ১৬ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার।
এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৪০ কোটি ২৯ লাখ মার্কিন ডলার, মালদ্বীপ থেকে ১৪ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, মরিশাস থেকে ১৪ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার, জাপান থেকে ১০ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার এবং ব্রুনাই দারুসসালাম থেকে ৮ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে।

