আগামী অর্থবছরে দেশে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
আজ বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব তথ্য দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রশ্নটি ছিল টেবিলে উত্থাপিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদা জানতে চান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উত্তরাঞ্চলের পিছিয়ে থাকা এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের কোনো বিশেষ পরিকল্পনা বা বরাদ্দ আছে কি না।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং অঞ্চলভিত্তিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নকে সরকার আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামানো এবং প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে এ খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পারিবারিক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ নারীকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দিতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ১০০ উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করতে ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে ৫৫ লাখ পরিবারকে কর্মহীন সময়ে ছয় মাস ধরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল ১৫ টাকা কেজি দরে দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশে এক হাজারের বেশি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে চাল ও আটা সরবরাহ চলছে। পাশাপাশি ৪১৯ উপজেলায় উন্মুক্ত বাজার বিক্রয় কার্যক্রম চালু রয়েছে, যেখানে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
এছাড়া খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা ২৩ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন থেকে ২৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত করার উদ্যোগ এবং খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্য ৩৮ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন থেকে ৪১ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ওই অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাজেটে আলাদা অঙ্ক নির্ধারণ না থাকলেও ভৌত অবকাঠামো খাতে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শীতল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প ও লজিস্টিকস উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগও রয়েছে।
সরকারের আশা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অবকাঠামো উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরবে।

