আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম টানা বাড়তে বাড়তে তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। দুর্বল হয়ে পড়া মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নতুন প্রত্যাশাই সোনার দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬৪১ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে লেনদেনের একপর্যায়ে দাম ১৫ মে’র পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর মধ্য দিয়ে গত সপ্তাহের ৫ শতাংশের বেশি মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতাও বজায় রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিতে সোনার দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন ডলার কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি। এতে ডলারের ভবিষ্যৎ শক্তি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাধারণত ডলারের দর কমে গেলে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনা অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়। ফলে সোনার চাহিদা বাড়ে এবং দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সপ্তাহের শুরুতেই সোনা আবার শক্ত অবস্থানে ফিরেছে। দুর্বল ডলার ও উচ্চ বন্ড সুদের হার অর্থনীতির অন্তর্নিহিত চাপ এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা সম্পর্কে কী বার্তা দিচ্ছে, বাজার এখন সেটিই বিবেচনা করছে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান যদি সুদের হার নিয়ে সতর্ক বা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দেন, তাহলে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে।
সুদের হার কমার সম্ভাবনা তৈরি হলে সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ বাড়ে। ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনায় অর্থ সরিয়ে নিতে পারেন।
সোনার দাম বাড়ার পেছনে শুধু ডলারের দুর্বলতা বা সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশাই কাজ করছে না। বিশ্বজুড়ে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা বাড়াচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি কমাতে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝোঁকেন।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৮ ডলারে রয়েছে। প্লাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৭৮ দশমিক ৮৮ ডলার। আর প্যালাডিয়ামের দাম অপরিবর্তিত থেকে ১ হাজার ৩৫০ ডলারে রয়েছে।

