জামালপুরে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন হলেও দাম কমে যাওয়ায় চাষিরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। মাদারগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় ভরা মৌসুমে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে মরিচ বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।
চাষিদের হিসাবে, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ উৎপাদনে খরচ ১২ টাকা, আর তোলার শ্রমিক খরচ ১০ টাকা, অর্থাৎ মোট ২২ টাকা। অথচ পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে তারা মরিচ বিক্রি করছেন মাত্র ১৬-১৭ টাকা কেজি দরে, ফলে কেজিতে ৫-৬ টাকা লোকসান হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে খুচরা পর্যায়ে একই মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়।
সরিষাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুপ সিনহা জানান, এ বছর বন্যা না হওয়ায় নিচু এলাকার কৃষকেরা আগেভাগে চাষ শুরু করতে পেরেছেন। এতে ফলন বেড়েছে, সরবরাহ বেশি হওয়ায় চাষি পর্যায়ে দাম পড়ে গেছে। তার ভাষ্য, মৌসুমের শুরুতে পাইকারি পর্যায়ে মণপ্রতি দাম ছিল ৪ হাজার ৫০০ টাকা, এক মাসের মধ্যে তা নেমে এসেছে ৬৪০ টাকায়। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মাদারগঞ্জের সবচেয়ে বড় কাঁচা মরিচের বাজার গাবেরগ্রাম হাটে প্রতি কেজি মরিচ ১৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
মাদারগঞ্জের চাষি কাবেল জানান, সার, কীটনাশক ও সেচের খরচ বাড়ায় এবার বিঘাপ্রতি তার ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান দামে লাভ তো দূরের কথা, বিনিয়োগের টাকা তোলাও কঠিন হবে।
সরিষাবাড়ীর চাষি সোলেমান কবির অভিযোগ করেন, পাইকার ও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম ঠিক করেন। তবে চুনিয়াপাতাল বাজারের ব্যবসায়ী মাহিম বেপারী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো সিন্ডিকেট নেই এবং জেলাজুড়ে দাম মোটামুটি একই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জামালপুরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান জানান, এ বছর জেলায় ৬ হাজার ৬৩৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৬ হাজার ৬৫০ হেক্টরে মরিচ চাষ হয়েছে। শুধু মাদারগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫০ হেক্টর, চাষ হয়েছে ১ হাজার ৫০ হেক্টরে। মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, এখানে উৎপাদন ৪২ হাজার টনের বেশি হতে পারে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে মরিচ ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে পাঠানো হচ্ছে এবং মালয়েশিয়াতেও রপ্তানি হচ্ছে।
জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, কৃষকেরা যাতে সিন্ডিকেটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য প্রশাসন নিয়মিত বাজার তদারকি করছে।

