প্লাস্টিক ও রাবারের তৈরি হাওয়াই চপ্পল ও কমদামি জুতার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, এই ভ্যাটের ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, দাম বেড়ে যাচ্ছে, আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শ্রমজীবী, দিনমজুর ও প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ।
এই দাবিকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতি। সম্মেলন শেষে ডিআরইউর সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে একটি মানববন্ধনও করেন সমিতির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, ২০১৬ সাল থেকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী হাওয়াই চপ্পল ও প্লাস্টিক-রাবারের তৈরি কমদামি জুতার ওপর সরকার ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা দিয়েছিল, যা স্থানীয় শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এসআরও জারি করে এ সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়। এমনকি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও ভ্যাট অব্যাহতি পুনর্বহাল হয়নি। এ সিদ্ধান্তের ফলে ছোট ছোট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। পাদুকা সমিতির মতে, বিদেশি পণ্য আমদানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় একদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের ছোট উদ্যোক্তারা হারাচ্ছেন তাঁদের ব্যবসা। এতে শুধু উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে না, কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সমিতির নেতারা বলেন, প্লাস্টিক ও রাবারের চপ্পলের দাম সাধারণত ১৫০ টাকার নিচে থাকে, যা মূলত শ্রমজীবী মানুষদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। এই পণ্যে ভ্যাট আরোপের ফলে দরিদ্র শ্রেণির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বা বন্ধ হয়ে গেছে।
সমিতির আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মো. তাইফুল সিরাজ লিখিত বক্তব্যে বলেন, এই খাতে ভ্যাট অব্যাহতি পুনর্বহাল হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী সরাসরি উপকৃত হবে এবং শিল্পটিও টিকে থাকবে। তিনি আরও বলেন, ভারতে যেখানে ৫০০ টাকা পর্যন্ত জুতার ওপর ভ্যাট মওকুফ রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে ১৫০ টাকার জুতাতেই ভ্যাট আরোপ অযৌক্তিক। এতে পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
পাদুকা সমিতির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ ফজলু বলেন, হাওয়াই চপ্পলের প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক, রাবার ও পলিথিনজাত দ্রব্য। এগুলো রিসাইকেল করে পুনরায় উৎপাদন করা হয়। তাই পরিবেশ রক্ষায়ও এই শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপের কারণে এই প্রক্রিয়া এখন হুমকির মুখে। তিনি আরও বলেন, দেশের হকার, রিকশাচালক, কৃষক, গার্মেন্টস শ্রমিক, দিনমজুরসহ নিম্নআয়ের মানুষ এই চপ্পলের প্রধান ব্যবহারকারী। তাঁদের জন্য এই জুতা সাশ্রয়ী ও ব্যবহারোপযোগী। কিন্তু ভ্যাট আরোপের ফলে এই জনগোষ্ঠী চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহসভাপতি আশরাফ উদ্দিন, সচিব ইমরুল কায়েস এবং সদস্য জাহেরুল ইসলাম। তাঁরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, জনগণের স্বার্থ ও স্থানীয় শিল্পের বিকাশ বিবেচনায় এনে ১৫০ টাকার নিচে প্লাস্টিক ও রাবারের তৈরি জুতা ও চপ্পলের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট দ্রুত প্রত্যাহার করা হোক।

