কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গুগলের ব্যবসার প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব রাখছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে গুগলের মূল কোম্পানি আলফাবেট জানিয়েছে, এআই এখন তাদের প্রবৃদ্ধির কৌশলের মূল চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে।
এই প্রান্তিকে আলফাবেটের আয় হয়েছে ৯৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই জানান, এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে সার্চ, ক্লাউড ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সেবায় এআই প্রযুক্তির বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিচাই বলেন, “এআই আমাদের ব্যবসার প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। গুগলের এআই ওভারভিউস ও এআই মডেল ফিচারগুলো ভালো পারফর্ম করছে।”
এআই ওভারভিউস ফিচার সার্চ রেজাল্টের সংক্ষিপ্ত উত্তর তৈরি করে দেয়। এটি এখন ২০০টিরও বেশি দেশ এবং ৪০টির বেশি ভাষায় চালু আছে। মাসিক ব্যবহারকারী সংখ্যা ২০০ কোটির বেশি। অন্যদিকে, উন্নত চ্যাট-ভিত্তিক সার্চ ফিচার ‘এআইমোড’-এর মাসিক ব্যবহারকারী ১০ কোটির বেশি। এর বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে। গুগলের ফ্ল্যাগশিপ এআই অ্যাপ ‘জেমিনি’-এর জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। বর্তমানে এর মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৪৫ কোটি। আগের প্রান্তিকের তুলনায় অ্যাপটিতে দৈনিক অনুরোধ ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
এআইভিত্তিক সেবার বাড়তি চাহিদা মেটাতে গুগল তাদের অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ২০২৫ সালের জন্য কোম্পানিটির মূলধন ব্যয় পরিকল্পনা ১০ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে ৮৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। আলফাবেটের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আনাত আশকেনাজি বলেন, “এই আপডেট আমাদের সার্ভার ও ডেটা সেন্টার নির্মাণে গতি আনার পরিকল্পনাকে প্রতিফলিত করে।” জেমিনি ২.৫ মডেলে রয়েছে জনপ্রিয় ভিডিও জেনারেশন টুল ‘ভিও’ এবং দ্রুত গতির রিজনিং মডেল ‘ফ্ল্যাশ-লাইট’। গুগলের দাবি, মে মাস থেকেই ‘ভিও ৩’ দিয়ে ৭ কোটির বেশি ভিডিও তৈরি হয়েছে।
এআইয়ের সুফল মিলছে ইউটিউবেও। ‘ইউটিউব শর্টস’ এখন প্রতিদিন ২০০ বিলিয়নের বেশি ভিউ পাচ্ছে। কিছু দেশে শর্টস থেকে প্রতি ঘণ্টায় ইন-স্ট্রিম ভিডিওর চেয়েও বেশি আয় হচ্ছে। এদিকে, গুগল ক্লাউড সেবায় এআই টুলের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে ৮৫ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান ক্লাউডের মাধ্যমে জেমিনি ব্যবহার করছে। বছরে এ সেবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৫ গুণ। বিবিবিভিএ, ক্যাপজেমিনাই ও টার্গেটের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান এআই এজেন্ট ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে এবং কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় করছে।
তবে সব ইতিবাচক দিকের মাঝেও গুগল নিয়ন্ত্রণমূলক চাপে রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের এক মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে একচেটিয়া প্রতিযোগী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবুও পিচাই আশাবাদী। তিনি বলেন, “এটি সার্চের জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর সময়।” তার দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে সার্চ ও বাণিজ্যিক অনুসন্ধান অনেক বেড়েছে, বিশেষ করে তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে।

