চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছিল এক লাখ ২৫ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে এ বরাদ্দ বাড়িয়ে এক লাখ ২৮ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা করা হয়। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এ খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত বাজেট নথিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের দীর্ঘদিনের চাপ থাকা সত্ত্বেও ভর্তুকি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বরং এ খাতে উচ্চ ব্যয় বজায় রাখতে হচ্ছে সরকারকে। সংশোধিত বাজেটেও ভর্তুকি বাড়ানো হয়েছে।
অর্থ বিভাগের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে আগামী অর্থবছরেও বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উচ্চমাত্রার ভর্তুকি অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। যদিও সরকার উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল দীর্ঘদিন ধরে ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমানোর পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়ায় এখনো উচ্চ ভর্তুকির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরকারকে স্পট বাজার থেকে দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরে এ খাতে ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। অর্থবছর শেষে এ ব্যয় প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবু আগামী অর্থবছরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে—এ প্রত্যাশায় আবারও ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরেও সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি থাকবে বিদ্যুৎ খাতে। এ খাতে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটেও একই পরিমাণ বরাদ্দ ছিল, পরে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কৃষি উৎপাদন ধরে রাখতে সরকার সারের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সারের জন্য ২৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যয় হবে ১৭ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে অন্যান্য সরকারি সার উৎপাদন ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। চলতি অর্থবছরেও একই পরিমাণ বরাদ্দ ছিল।
এ ছাড়া অবশিষ্ট অর্থ ব্যয় হবে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, টিসিবি কার্যক্রম, রপ্তানি প্রণোদনা, প্রবাসী আয় প্রণোদনা, পাটজাত পণ্যে সহায়তা এবং সরকারি বিভিন্ন দুর্বল ও লোকসানি প্রতিষ্ঠানে নগদ ঋণ সহায়তায়।

