নেগেটিভ ইক্যুইটি বা আনরিয়েলাইজড লসের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ সংক্রান্ত পরিকল্পনা জমা দেওয়ার সময়সীমা আরও তিন মাস বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজারদের জন্য এই বাড়তি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
বিএসইসির ৯৬৫তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। বুধবার সংস্থার পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এর আগে কমিশন ৩০ জুনের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনসহ একটি গ্রহণযোগ্য কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল, যাতে মার্জিন অ্যাকাউন্টে থাকা গ্রাহকদের নেগেটিভ ইক্যুইটি এবং স্টক ব্রোকার বা মার্চেন্ট ব্যাংকারদের নিজস্ব পোর্টফোলিওতে থাকা আনরিয়েলাইজড লস মোকাবিলায় প্রভিশন রাখা যায়। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। কেউ কেউ আবার বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই কর্মপরিকল্পনা জমা দিয়েছে। এ অবস্থায় ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজারদের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনসহ একটি নির্ভরযোগ্য ও সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা বিএসইসিতে জমা দিতে হবে। যারা পূর্বে অনুমোদন ছাড়াই পরিকল্পনা জমা দিয়েছে, তাদেরও এই সময়ের মধ্যে পুনরায় বোর্ড অনুমোদনসহ পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।
একই দিনে কমিশন সভায় আরও একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সিডিবিএলের আবেদনের প্রেক্ষিতে। বার্ষিক বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট মেইনটেন্যান্স ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কাট-অফ ডেট বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট করা হয়েছে এবং ভাউচার প্রস্তুতের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
সব মিলিয়ে বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই সময়সীমা বৃদ্ধি কিছুটা স্বস্তির সুযোগ তৈরি করেছে। তাদের এখন আরও পরিকল্পিতভাবে প্রভিশন সংরক্ষণের প্রস্তুতি নিতে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে তা কমিশনে দাখিল করতে সুযোগ থাকছে। বিএসইসির এই সিদ্ধান্ত বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা রক্ষায় সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

