প্রযুক্তির জগতে এবার একটি বড় ঘটনা হলো মাইক্রোসফটের বাজারমূল্য ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পার হওয়া। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চাহিদার তীব্রতা মেটাতে আগামী অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছে সফটওয়্যার জায়ান্টটি।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেক প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ারের পরে মাইক্রোসফট হল দ্বিতীয় কোম্পানি, যারা এই বিশাল বাজারমূল্যের মাইলফলক স্পর্শ করলো। নিউইয়র্ক শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বৃহস্পতিবার দিনে ৪.৬ শতাংশ বেড়ে গেছে, যা এমএসএফটি হিসেবে লেনদেন হয়।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে মাইক্রোসফটের ‘অ্যাজিওর’ ক্লাউড সেবার বিক্রিও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এআই এবং ক্লাউড প্রযুক্তির শক্ত অবস্থান প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি কোম্পানিটি বড় বিনিয়োগের মধ্যেও লাভজনকতা ধরে রেখেছে।
স্টোনহেজ ফ্লেমিং গ্লোবালের পোর্টফোলিও ম্যানেজার গেরিট স্মিতের মতে, “মাইক্রোসফট এখন ধীরে ধীরে একটি ক্লাউড-ভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠছে এবং এআই ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় স্থান দখল করছে।”
২০১৯ সালে প্রথমবার ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য অর্জন করেছিল মাইক্রোসফট। এরপর ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগেছিল। কিন্তু এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় মাত্র এক বছরের মধ্যেই তাদের বাজারমূল্য তিনগুণ বেড়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মাইক্রোসফটের এই সাফল্য শুধু তাদের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ফল নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য তাদের দৃঢ় বিনিয়োগ নীতিরও প্রমাণ।
সর্বশেষ কোম্পানির আয় প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মাইক্রোসফটের রাজস্ব হয়েছে ৭৬.৪ বিলিয়ন ডলার। এদিকে, এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি গড়ে তুলতে তাদের বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এখানেই থেমে নেই প্রযুক্তি মহাসাগরে মাইক্রোসফটের জয়যাত্রা। বিশ্বব্যাপী টেক ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের প্রভাব দিনে দিনে বেড়েই চলেছে, আর এআই ও ক্লাউডের এই যুগে তাদের নামই এখন বড় এক প্রতীক।

