যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি নিজের বেতন হোয়াইট হাউস সংস্কারের জন্য দান করেছেন। বুধবার (৬ আগস্ট) তিনি জানান, প্রথম বেতন চেকটি হোয়াইট হাউস হিস্টোরিকাল অ্যাসোসিয়েশনকে দিয়েছিলেন, যেন ঐতিহাসিক এই ভবনের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে তা ব্যবহার করা যায়।
ট্রাম্প বলেন, “হোয়াইট হাউসে এমন উন্নয়ন চলছে, যা ভবনটি নির্মাণের পর আর কখনও দেখা যায়নি।”
তবে ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুযায়ী- সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি ও হার্বার্ট হুভারও তাদের বেতন দান করেছিলেন। ফলে ট্রাম্পের এই দাবিতে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এই ঘোষণা আসে এমন সময়ে, যখন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্টেট বলরুমের সংস্কার খরচে অর্থসাহায্য করছেন। প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে এই নতুন বলরুম। এটি হবে ভবনের ইতিহাসে অন্যতম বড় ইভেন্ট স্পেস।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লেভিট বলেন- “গত ১৫০ বছর ধরে প্রেসিডেন্ট, প্রশাসন ও কর্মীরা এমন একটি ইভেন্ট স্পেসের স্বপ্ন দেখেছেন, যেখানে বড় আকারের অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও জনগণের জন্য এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে চান।”
মার্কিন ফেডারেল আইনে প্রেসিডেন্টের বাৎসরিক বেতন ৪ লাখ ডলার। সঙ্গে আছে ৫০ হাজার ডলার খরচ ভাতা, ১ লাখ ডলার ভ্রমণ খরচ ও ১৯ হাজার ডলার বিনোদন ভাতা।
তবে ট্রাম্পের ২০২৪ সালের আর্থিক বিবরণীতে দেখা যায়- তার আয় ছিল ৬০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তার সম্পদের মূল্য কমপক্ষে ১.৬ বিলিয়ন ডলার। এই সম্পদের উৎস মূলত ক্রিপ্টোকারেন্সি, গলফ ক্লাব, লাইসেন্সিং চুক্তি ও অন্যান্য ব্যবসা।
হোয়াইট হাউস হিস্টোরিকাল অ্যাসোসিয়েশন একটি বেসরকারি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যা ১৯৬১ সালে ফার্স্ট লেডি জ্যাকলিন কেনেডি প্রতিষ্ঠা করেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো হোয়াইট হাউসের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং তা সাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের বেতন দান করেছিলেন। ২০১৭ সালে শিক্ষা বিভাগকে তার একটি বেতন চেক দেওয়া হয়েছিল, যার মাধ্যমে STEM (সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথ) ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, এই উদ্যোগ তরুণদের কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছিল।

