Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, এপ্রিল 3, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » উৎপাদন ও মজুত পর্যাপ্ত তবু বাংলাদেশে চালের দাম বাড়ছে কেন?
    অর্থনীতি

    উৎপাদন ও মজুত পর্যাপ্ত তবু বাংলাদেশে চালের দাম বাড়ছে কেন?

    মনিরুজ্জামানআগস্ট 13, 2025
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বিশ্ববাজারে চালের দাম গত ৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। অথচ বাংলাদেশে খুচরা দামের বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত। দেশি উৎপাদন ভালো, আমদানিও বেড়েছে, সরকারি গুদামে মজুত পর্যাপ্ত—তবুও দাম কমছে না। এর প্রভাব সরাসরি নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার উপর পড়ছে। এ কারণে দেশের প্রধান খাদ্যশস্য চালের খুচরা মূল্য রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এবং এই অবস্থার দীর্ঘসময় ধরে চলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

    গত বছরের আগস্ট থেকে চালের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সাধারণভাবে ধরা হয়, আমন ও বোরো মৌসুমে ফলনের প্রাচুর্য থাকলে বাজারে দাম কমার কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ২০২৩ সালের তুলনায় ভোক্তাদের প্রতি কেজি চাল কিনতে হচ্ছে ৫–১৭ টাকা বেশি দামে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি আরও বেড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোতে এই মূল্যবৃদ্ধি জীবনধারার ওপর প্রভাব ফেলছে।

    অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ হলো বাজার ব্যবস্থাপনার ঘাটতি। তারা বলছেন, কৃষকরা ধান বিক্রি করেন কম দামে। কিন্তু মিলার ও মজুতদাররা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে দাম বাড়িয়ে দেন। অভিযোগ রয়েছে, বড় করপোরেট মিলগুলো চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা বিপুল পরিমাণ ধান কিনে রাখছে এবং পরে চালের দাম বাড়াচ্ছে। তবে এসব কোম্পানি অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, চাল মজুতের সময় সীমিত এবং মুনাফাও বেশি নয়।

    অনির্ভরযোগ্য তথ্য ও বাজারে অসঙ্গতি:

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ঝুড়িতে চালের অংশ প্রায় এক-দশমাংশ। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের জন্য এই অংশ অনেক বেশি। তিনি বলেন, “মূল সমস্যা হলো অনির্ভরযোগ্য তথ্য। বলা হয় আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, অথচ প্রতিবছরই খাদ্যশস্য আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পুরনো পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করে। তাই বাস্তব অবস্থা সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে না। উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে চাঁদাবাজি দাম বাড়ায়।”

    বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ফসল উৎপাদনের তথ্য অনেক সময় ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বলা হয়। যদি ফলন এবং আমদানির রেকর্ড থাকে, তাহলে বাজারে ঘাটতি থাকার কথা নয়। সরবরাহ ভালো থাকলেও বেসরকারি স্তরে মজুতদারি হচ্ছে। সরকারের আইন থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয় না।”

    সরবরাহ ও আমদানি পরিস্থিতি:

    সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে প্রতিবছরই বাংলাদেশ চাল আমদানি করে। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানির বন্ধ থাকার কারণে সরকারি মজুত নেমে আসে ৬.৫ লাখ টনে। এটি দেশের ১৫ দিনের চাহিদা বা ১২.৫ লাখ টনের নিরাপদ মজুতের তুলনায় অর্ধেকের কম। পরবর্তীতে আমদানি পুনরায় শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সরকারি মজুত রেকর্ড ১৯.১৭ লাখ টনে পৌঁছায়। তবু বাজারে দাম কমেনি। ড. জাহাঙ্গীর আলম ব্যাখ্যা করেন, “মজুত ওই পর্যায়ের নিচে নামলেই মিল মালিকরা বুঝে যায় সরকারের দর-কষাকষির ক্ষমতা দুর্বল। তারা তখন বাজারে দামের ওপর প্রভাব রাখতে সক্ষম।”

    এছাড়া, গত বছরের নভেম্বরে আমদানি শুরু হওয়া এবং রেকর্ড ফলনের পরও চালের দাম কমেনি। সরকারের মজুত বৃদ্ধি পেয়ে জুলাইয়ে প্রায় ২০ লাখ টনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, সরবরাহ ও মজুত পর্যাপ্ত থাকলেও বাজারে চাহিদা ও মূল্য সমন্বয় সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না।

    বাজার বিশ্লেষণ ও প্রভাব:

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, চালের বাজারে যে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে তা শুধুমাত্র সরবরাহের অভাবে নয়। এটি মূলত বাজার নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য ঘাটতির ফল। মিলার ও বেসরকারি মজুতদাররা সরকারি নীতির সীমারেখার বাইরে ক্রয়-বিক্রয় পরিচালনা করলে দামের স্থিতিশীলতা হ্রাস পায়। সিপিডি ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা উভয়ই বলছেন, যথাযথ তথ্য সংগ্রহ ও বাজার নজরদারির মাধ্যমে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। উৎপাদন, আমদানি এবং মজুত পর্যাপ্ত থাকলেও বাজারে সঠিক তথ্যের অভাব এবং চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ঘাটতি সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    সংক্ষেপে মূল কারণগুলো:

    • বাজার ব্যবস্থাপনার ঘাটতি
    • বড় করপোরেট মিলের প্রভাব
    • অনির্ভরযোগ্য উৎপাদন ও আমদানির তথ্য
    • বেসরকারি মজুতদারি
    • সরকারের যথাযথ নিয়ন্ত্রণের অভাব

    টিসিবি (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চালের দাম এক বছর আগের তুলনায় ১৫–২০ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসের সঙ্গে তুলনা করলে দাম বেড়েছে ১৫–২৮ শতাংশ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ২৬ লাখ টন, আর আমন মৌসুমে ১ কোটি ৬৫ লাখ টন। আগের বছরের একই সময়ের মোট উৎপাদনের সঙ্গে তুলনা করলে এবার প্রায় ১৩ লাখ টন বেশি চাল উৎপাদিত হয়েছে। এছাড়া, এ অর্থবছরে ১৪ লাখ ৩৬ হাজার টন চাল আমদানি করা হয়েছে, যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

    তারপরও বাজারে সরবরাহ আঁটসাঁট। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে আমদানির বন্ধ থাকার কারণে সরকারি মজুত কমে যাওয়াই মিল মালিকদের দাম বাড়ানোর উৎসাহ দিয়েছে। ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বার্ষিক চালের চাহিদা ৩ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৮০ লাখ টনের মধ্যে। এর মধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশ উৎপাদন হয় বোরো মৌসুমে।

    নিম্নবিত্ত পরিবারে ক্রয়ক্ষমতার চাপ:

    রাজধানীর গুলশানে থাকা আমিনুল ইসলাম তার সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ছেলেকে নিয়ে তিনি শাহজাদপুরের একটি মেসে থাকেন, স্ত্রী ও অন্য দুই সন্তান গ্রামে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে তিনি ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, “চালের দাম এত বাড়তে আমি কখনো দেখিনি। উৎপাদন ভালো থাকার পরও আমাদের এত বেশি দামে কেন কিনতে হচ্ছে। বাড়তি টাকা কার পকেটে যাচ্ছে?” পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, খাদ্যের পেছনে জাতীয় ব্যয়ের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যয় হয় চাল কিনতে। তবে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্ষেত্রে এটি প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি।

    চালের বাজারে করপোরেট প্রতিষ্ঠানদের প্রভাব:

    কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, বড় করপোরেট মিলগুলোর বিপুল মজুতের ক্ষমতা আছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসেন জানান, “প্রতি কেজিতে দাম ১ টাকা বাড়লেই ব্যবসায়ীরা দিনে ১০ কোটি টাকা অতিরিক্ত লাভ করে।” তিনি আরও বলেন, “কৃষকের কাছ থেকে চাল কিনে তারা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভরা মৌসুমেও দাম বেড়েছে। সরকার এগুলো নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ।”

    নওগাঁ জেলা রাইস মিল মালিক গ্রুপের জেনারেল সেক্রেটারি ফারহাদ হোসেন চোকদার বলেন, “ছোট মিলগুলো বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে না। সরকার সব তথ্য জানে—ধানের দাম, মজুতের পরিমাণ। এ বছর ধানের দাম বেশি ছিল, তাই চালের দামও বেশি।” তিনি আরও বলেন, ছোট মিলগুলো বড় কোম্পানির তুলনায় অন্তত ৩০ শতাংশ কম চাল মজুত রাখতে পারে। বড় কোম্পানিগুলোর একটি মিলের মজুত ক্ষমতা ৫০টি অটো-রাইস মিলের সমান। ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় ছোট মিলগুলোও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

    বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী যেমন এসিআই ও প্রাণ বহুদিন ধরে চালের ব্যবসায় রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিটি গ্রুপ, রূপচাঁদা ও মেঘনা গ্রুপও বাজারে প্রবেশ করেছে। তবে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রাণ–আরএফএলের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, “এ বছর ধানের দাম বেশি ছিল। মৌসুমে সবাই কিনছিল, তাই দাম বেড়ে গেছে। নষ্ট হওয়া ছাড়া চাল দুই-তিন মাসের বেশি রাখা যায় না। আমরা নিয়মিত সরকারের সঙ্গে মজুত তথ্য শেয়ার করি।”

    সরকারের পদক্ষেপ:

    খাদ্যসচিব মো. মাসুদুল হাসান জানান, চালের দাম বৃদ্ধিতে মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতও প্রভাব ফেলেছে। সরকারের উদ্যোগে ১০ আগস্ট থেকে টিসিবির মাধ্যমে খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ১৭ আগস্ট থেকে চালু হচ্ছে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৫৫ লাখ পরিবার ছয় মাস ধরে মাসে ৩০ কেজি চাল ১৫ টাকায় পাবেন।

    খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, উৎপাদন খরচ বেড়েছে, তবে সরকার এখনও প্রতি কেজি চাল উৎপাদনে প্রায় ২৫ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন, “খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সহায়ক হবে, তবে খোলা বাজারে দাম কমানো কঠিন।” সরকারের এই পদক্ষেপগুলো মূলত নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় নেওয়া হয়েছে। তবে বাজারের প্রাথমিক স্থিতিশীলতা অর্জন করতে সরবরাহ ও মূল্য ব্যবস্থাপনার সমন্বয় জরুরি।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    অর্থনীতি রক্ষায় শিল্পোদ্যোক্তারা দিচ্ছেন স্পষ্ট বার্তা

    এপ্রিল 2, 2026
    মতামত

    ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য পূরণে বীমা খাতের সংস্কার জরুরি

    এপ্রিল 2, 2026
    অর্থনীতি

    দেশি পেট্রোল তৈরিতেও লাগে বিদেশি অকটেন

    এপ্রিল 2, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.