ইসরায়েল মিসরের সঙ্গে একটি বড় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ চুক্তি চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। দুই বছর আগে চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে বিলম্ব হয়। বর্তমানে জানানো হয়েছে, দুই সপ্তাহের মধ্যে দুই পক্ষ স্বাক্ষর করবে। এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র লেভিয়াথান থেকে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস রফতানি শুরু হবে।
লেভিয়াথান গ্যাসক্ষেত্রের অংশীদার প্রতিষ্ঠান নিউমেড এনার্জি জানিয়েছে, এটি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুক্তি। চুক্তির আওতায় ২০৪০ সাল পর্যন্ত মিসরে ১৩ হাজার কোটি ঘনমিটার গ্যাস রফতানি করা হবে। বাজারমূল্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। বাস্তবায়ন হলে ২০২৮ সালের মধ্যে ইসরায়েলের গ্যাস রফতানি বর্তমানের তিন গুণ বাড়বে।
চুক্তিটি মূলত ২০১৯ সালের একটি চুক্তির সংশোধিত সংস্করণ। তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি প্রায় ছয় হাজার কোটি ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহে একমত হয়েছিলেন। নতুন চুক্তিতে সরবরাহের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে।
চুক্তি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। প্রথম পর্যায়ে মিসরীয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ব্লু ওশান এনার্জির মাধ্যমে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দুই হাজার কোটি ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। পরবর্তী ধাপে লেভিয়াথান উৎপাদন বাড়ালে অতিরিক্ত ১১ হাজার কোটি ঘনমিটার গ্যাস মিসরে পাঠানো হবে। এতে গ্যাসক্ষেত্রটির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ১০০ কোটি ঘনমিটার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৩০০ কোটি ঘনমিটার হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, মিসর স্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবে। একই সঙ্গে দেশটির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাত শক্তিশালী হবে, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইসরায়েলও এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে জ্বালানি রফতানি বাড়াতে পারবে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, রফতানির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদাও পূরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে লেভিয়াথান থেকে উৎপাদিত গ্যাসের ৬০ শতাংশ রফতানি হবে। অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ স্থানীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহার হবে। ২০২৪ সালে ক্ষেত্রটি থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদন করা হয়, যার অর্ধেক মিসরে রফতানি হয় এবং বাকি অংশ ইসরায়েল ও জর্ডানে সরবরাহ করা হয়।
নিউমেড এনার্জি আরও জানিয়েছে, ২০৪০ সালের পর লেভিয়াথান হবে ইসরায়েলের প্রধান গ্যাস উৎস। এর আয়ুষ্কাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশটির প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাস এখান থেকেই আসবে।

