বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ থাকলেও মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতাং কিংবা সিঙ্গাপুরের মোস্তফা এলাকার বাংলাদেশি খাবারের হোটেলগুলোতে সহজেই মিলছে পদ্মার ইলিশ। এসব বাজারে ইলিশের টুকরো বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ রিঙ্গিত দরে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা। সিঙ্গাপুরে আবার কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ৬-৭ হাজার টাকা।
কুয়ালালামপুরের এক হোটেল ব্যবসায়ী পরিচয় না প্রকাশের শর্তে জানিয়েছেন, ইলিশ সরাসরি বাংলাদেশ থেকে আসে না। ভারতীয় লাইসেন্স ব্যবহার করে রপ্তানি হলেও চুক্তি হয় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। মূলত ফ্রোজেন ইলিশ ভারত হয়ে এসব দেশে পৌঁছায়। সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীরাও একই তথ্য জানিয়েছেন।
কলকাতার হাওড়া বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা বলেন, পূজার সময় বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে ইলিশ পাঠানো হলেও বছরের বাকি সময় তা চোরাই পথে আসে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ ভারত হয়ে রপ্তানি হয় অন্য দেশে। বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গেও দরদাম ঠিক করেন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরাই, কেবল ব্যবহার হয় ভারতীয় রপ্তানিকারকদের লাইসেন্স। ফলে বাংলাদেশের ইলিশ ভারতে বেশি দামে কিনেও লোকসান হয় না ব্যবসায়ীদের।
এই পুরো চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গড়া একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুলের চারটি লাইসেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত ইলিশ রপ্তানি হয়। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করলেও তার লাইসেন্স ব্যবহার করেই ইলিশ রপ্তানি হচ্ছে। কলকাতায় তার রয়েছে বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। একইভাবে পাবনার সেভেন স্টার এবং কেবিসি নামের দুই বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরও কলকাতার হাওড়া ও বারাসাতে মাছের গদি, ফ্ল্যাট ও ব্যবসা রয়েছে।
ভারতের হাওড়া ও পাতিপুকুরের বাজারে এসব বাংলাদেশি রপ্তানিকারকের দারুণ প্রভাব রয়েছে। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমেই তারা ভারতীয় আত্মীয়স্বজনদের নামে লাইসেন্স সংগ্রহ করেন। এরপর সেই লাইসেন্সে বাংলাদেশি ইলিশ অন্য দেশে পাঠানো হয়।
তবে এসব বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে রাজি নন সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকেরা। ভারতের ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদও রি-এক্সপোর্ট প্রসঙ্গে কিছু স্বীকার করেননি। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে ইলিশ এলে তা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়, পুনরায় রপ্তানির কোনো বিষয় নেই।
বাংলাদেশ ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নিজামউদ্দিন বলেন, দেশের চেয়ে কম দামে ইলিশ রপ্তানি আদৌ সম্ভব নয়। তবে নীরব হোসেন টুটুলসহ একাধিক রপ্তানিকারকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা সাড়া দেননি।

